নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর জেলায় মোট ১ হাজার ৪১৬টি বিদ্যালয়ের ১২ হাজার ২১০ জন পরীক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফলে মোট ১ হাজার ৩৪৫ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।
ফলাফলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করেছে দুটি বিশেষ ক্যাটাগরির বিদ্যালয়। এর মধ্যে শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের ১টি বিদ্যালয় থেকে ৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল এবং অংশ নেওয়া সকল শিক্ষার্থীই বৃত্তি পেয়েছে।
জেলায় ৮৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭ হাজার ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে বৃত্তি পেয়েছে ৮২৩ জন। এই ক্যাটাগরিতে পাসের হার ২৪.১২ শতাংশ। অন্যদিকে, ৬০৯টি সদ্য জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের ৩ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল; যার মধ্যে বৃত্তি পেয়েছে ২৩াস জন এবং পাসের হার ২১.৩১ শতাংশ। এছাড়া, ১৫১টি কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ের ৮৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে বৃত্তি পেয়েছে ১৪৪ জন, যেখানে পাসের হার ৪৭.৯৯ শতাংশ।
সার্বিক ফলাফলের বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জি এম আলমগীর কবীর বলেন, "বৃত্তির সংখ্যা ও অর্জনের দিক থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে।"

তালহা রহমান
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করেছে মেধাবী শিক্ষার্থী তালহা রহমান। সে দশপাখিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেছে।
বৃত্তিপ্রাপ্ত তালহা রহমান— কলেজ শিক্ষক মাহমুদুর রহমান এবং স্কুল শিক্ষিকা রোজিনা খাতুন দম্পতির প্রথম সন্তান। ভবিষ্যতে সে একজন পাইলট হতে চায় বলে জানায়। তার এই সাফল্যে পরিবারের পক্ষ থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী তালহা রহমান বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন ও দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছে।

দর্শন বিশ্বাস ও স্বপ্নিল বিশ্বাস
বৃত্তি পেয়েছে উজ্জ্বল বিশ্বাসের ছেলে দর্শন বিশ্বাস ও ভাগ্নে স্বপ্নিল বিশ্বাস স্বর্গ।
দর্শন যশোর বাঘারপাড়া উপজেলার ছাটিয়ানতলা প্রি-ক্যাডেট চাইল্ড কেয়ার একাডেমি থেকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সাধারণ বিভাগে বৃত্তি পেয়েছে।
এদিকে স্বপ্নিল বিশ্বাস স্বর্গ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ‘ইন্দিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ থেকে এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সাধারণ বিভাগে এ বৃত্তি অর্জন করেছে।তার পিতা নিরঞ্জন বিশ্বাস ও মাতা স্মৃতি রানী।
দুই কৃতি শিক্ষার্থীর এই অনন্য সাফল্য অর্জনে পরিবারের পক্ষ থেকে শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল কামনায় আর্শীবাদ প্রার্থনা করেছেন।
মেধাবী এই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
১২ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এই ফলাফল প্রকাশ করে। চলতি বছরের ১৫ এপ্রিলে সারা দেশে অনুষ্ঠিত হয় বৃত্তি পরীক্ষা।