নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ৬ নম্বর দোহাকুলা ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন মো. আব্দুস সাত্তার নামে এক ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুস সাত্তার বলেন, তিনি দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে সার ও কীটনাশকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইরা ট্রেডার্স, খলশী বাজার-এর নামে যশোরের জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। তাঁর আবেদনের নম্বর বাঘারপাড়া-৫৯। তবে সার ডিলার হিসেবে অনুমোদন না পাওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে দাবি করেন।
আব্দুস সাত্তার অভিযোগ করেন, দোহাকুলা ইউনিয়নে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত আব্দুর রশিদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও বিদ্যমান ডিলারশিপের বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, আব্দুর রশিদ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সাবেক সংসদ সদস্য রণজিৎ রায়ের গাড়িচালক মিজানুর রহমান মিজানের আপন ভাই। এ ছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সার ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং বর্তমানে ‘জিএম ট্রেডার্স’ নামে সার ডিলারের ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ করেন আব্দুস সাত্তার। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, সরকারি নীতিমালা ও নির্ধারিত শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা প্রকাশ্যে যাচাই করা জরুরি। বিষয়টি উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে যশোরের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। তবে তাঁর দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুস সাত্তার সার ডিলার নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা ও ডিলারশিপের বৈধতা যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে যোগ্য আবেদনকারীদের ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের স্বার্থে সার বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ৬ নম্বর খলশী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুস সাত্তার।