শেখ জালাল
❒ একত্রে আগামীর সারথি: যবিপ্রবির শিক্ষক ও আয়োজকদের সাথে অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের এক স্মরণীয় মুহূর্ত ছবি: ধ্রুব নিউজ
সকাল থেকেই যবিপ্রবি ক্যাম্পাসের বাতাস যেন একটু বেশিই চনমনে। কারও হাতে কলম-পেন্সিল, কারও চোখে চশমা, আর সবার মনেই অজানাকে জয় করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। যশোরের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে থাকা আগামীর নিউটন আর আইনস্টাইনরা আজ এক হয়েছিল এক ছাদের নিচে। উপলক্ষ— ১৫তম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০২৬। দিনভর উৎসব, উত্তেজনা আর বুদ্ধির ঝিলিক মিলিয়ে এটি ছিল যেন এক 'বিজ্ঞানের মহোৎসব'।
শহীদ মিনারের পাদদেশে যখন ডজনখানেক লাল-নীল বেলুন নীল আকাশে ডানা মেলল, তখন শিক্ষার্থীদের হাততালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো চত্বর। জাতীয় সঙ্গীতের সুরে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসেন আল মামুন যখন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন, তখন শুরু হয় এক নতুন যাত্রা। শোভাযাত্রার প্রতিটি কদম যেন বলছিল— ‘আমরা বিজ্ঞান দিয়ে বিশ্ব বদলাবো।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরিফ হোসেন গ্যালারি। সাধারণত এখানে বড়দের পাঠদান চলে, কিন্তু আজ দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন। সাদা শার্ট আর স্কুল ড্রেস পরা একঝাঁক শিক্ষার্থী যখন পরীক্ষার খাতায় তাদের চিন্তার প্রতিফলন ঘটাচ্ছিল, তখন পিনপতন নীরবতাও যেন কথা বলছিল। গণিতের জটিল সমীকরণ আর পদার্থের গূঢ় রহস্যগুলো যখন এই খুদেদের কলমে ধরা দিচ্ছিল, তখন উপস্থিত শিক্ষকরাও মুগ্ধ না হয়ে পারেননি।
বিকেলের আলো যখন ম্লান হয়ে আসছিল, তখন অধ্যাপক শরিফ হোসেন গ্যালারিতে জ্বলে ওঠে বিজয়ের আলো। বিজয়ীদের হাতে যখন কাঙ্ক্ষিত মেডেল আর সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়, তখন তাদের চোখেমুখে দেখা যায় আগামীর বিজ্ঞানী হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. হোসেন আল মামুনের ভাষায়, আজ যারা এখানে মেধার স্বাক্ষর রেখেছে, তারাই একদিন বিশ্বের বড় বড় গবেষণাগারে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। বিজ্ঞান শুধু পড়ার বিষয় নয়, বিজ্ঞান হলো জীবনকে দেখার একটি দৃষ্টিভঙ্গি।
বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. কোরবান আলির নিখুঁত পরিকল্পনায় এই আয়োজনটি পেয়েছিল পূর্ণতা । জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান আর গণিত বিভাগের বাঘা বাঘা অধ্যাপকদের উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল এক পরম পাওয়া।
ক্যাম্পাস ছেড়ে যখন শিক্ষার্থীরা বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছিল, তখন তাদের ব্যাগে শুধু পুরস্কার ছিল না; ছিল এক বুক আত্মবিশ্বাস। যবিপ্রবির এই মাঠ আজ শুধু অলিম্পিয়াড দেখেনি, দেখেছে আগামীর বিজ্ঞানীদের।