ক্রীড়া ডেস্ক
প্রেস কনফারেন্সে দিদিয়ের দেশম ছবি: সংগৃহীত
স্পেনের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন আগেই ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে ফ্রান্সের। শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার সেই তীব্র হতাশা নিয়েই আজ শনিবার (১৮ জুলাই) মায়ামিতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে ফরাসিরা। সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, ফ্রান্সের বিদায়ী প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম অকপটে স্বীকার করেছেন, এই সান্ত্বনার ম্যাচটি খেলার মতো মানসিক অবস্থা কোনো দলেরই নেই। তবে জাতীয় দলের জার্সির প্রতি সম্মান এবং দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে অন্তত ব্রোঞ্জ পদকটি নিয়েই দেশে ফিরতে চান তারা।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এসে দেশম জানান, এটি নিছক কোনো প্রীতি ম্যাচ নয়; বরং বিশ্বকাপের মঞ্চে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করার লড়াই। তিনি বলেন, 'এই ম্যাচকে ঘিরে আমাদের বড় একটি দায়বদ্ধতা কাজ করছে। আমি, আমার খেলোয়াড় এবং পুরো স্টাফ—আমরা সবাই এই শেষ লক্ষ্য অর্জনে বদ্ধপরিকর। সত্যি বলতে, ফাইনালে না ওঠার আক্ষেপে ইংল্যান্ড কিংবা আমরা কেউই এই ম্যাচটি খেলতে চাইনি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের এই লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতেই হচ্ছে এবং জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ালে সেই দায়িত্বটুকু পালন করতেই হয়।'
পাশাপাশি দেশম নিশ্চিত করেছেন যে, ফ্রান্সের ডাগআউটে এটাই হতে যাচ্ছে তার শেষ উপস্থিতি। বিদায়বেলায় আবেগাক্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই বর্ষীয়ান কোচ বলেন, 'আমার কাছে বিষয়টা পরিষ্কার যে, কোচ হিসেবে এটাই আমার শেষ ম্যাচ। আমি চাই না কেউ এ নিয়ে কান্না করুক। শেষটা একদম দোরগোড়ায় চলে এসেছে, তবে জীবন তো আর থেমে থাকে না। আমাদের এখন তৃতীয় হওয়ার এই শেষ লক্ষ্যটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দিকেই মনোযোগ দিতে হবে।'
কোচের এমন বিদায়ী আবহে দলের ভেতরের মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন ফরাসি ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে। সেমিফাইনালের ধাক্কা সামলে ওঠা কঠিন হলেও, প্রিয় কোচকে একটি জয়ের মাধ্যমে সম্মানজনক বিদায় জানাতে মুখিয়ে আছেন দলের ফুটবলাররা। কোনাতে বলেন, 'সত্যি বলতে আমাদের কেউই তৃতীয় স্থানের এই ম্যাচটি খেলতে প্রস্তুত ছিলাম না। তবে এখন আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্পও নেই। কোচ ফ্রান্স ফুটবলকে যা দিয়েছেন, তার প্রতিদান হিসেবে আমরা তাকে এই জয়টি উপহার দিতে চাই। তার প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ব্রোঞ্জ পদকটি নিজেদের করে নিতে আমরা মাঠে সর্বস্ব উজাড় করে দেব।'