ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: রয়টার্স
ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর হাই-ভোল্টেজ নকআউট পর্বে রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের শেষ ১৬ বা প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। পুরো ম্যাচ জুড়ে আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের পর শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জয় ছিনিয়ে নেয় ইউরোপের পরাশক্তিরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। তবে ৩৯ মিনিটে নরওয়েকে প্রথম সাফল্য এনে দেন তরুণ তারকা অ্যান্টোনিও নুসা। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় নরওয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে আইভরি কোস্ট। একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে তারা নরওয়ের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে। ম্যাচের ৫২ শতাংশ বল পজেশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে মোট ১৪টি শট নেয় আফ্রিকান জায়ান্টরা, যার মধ্যে ১৪টি কর্নার আদায় করে তারা নরওয়েকে কোণঠাসা করে ফেলেছিল। এর ফলশ্রুতিতে ম্যাচের ৭৪ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে আইভরি কোস্টকে সমতায় ফেরান আমাদ দিয়ালো।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির হন ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হালান্দ। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে আইভরি কোস্টের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ডি-বক্সের ভেতর থেকে চমৎকার ফিনিশিংয়ে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই সুপারস্টার। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখে জয়োল্লাসে মাতে নরওয়ে।
ম্যাচের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আইভরি কোস্ট ১৪টি শট নিলেও নরওয়ে নিয়েছে ৯টি, যার মধ্যে যথাক্রমে ৫টি ও ৩টি শট ছিল অন-টার্গেটে। বল পজেশনে আইভরি কোস্ট ৫২% এগিয়ে থাকলেও নরওয়ে ৪৮% নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল। পুরো ম্যাচে নরওয়ে ৪৮১টি পাস সম্পূর্ণ করে ৮৯% পাস অ্যাকুরেসি বজায় রাখে, অন্যদিকে আইভরি কোস্ট ৩৭৫টি পাসের বিপরীতে ৮৬% পাস অ্যাকুরেসি দেখায়। ফাউলের দিক থেকে নরওয়ে ৭টি এবং আইভরি কোস্ট ৬টি ফাউল করেছে, যেখানে নরওয়ের ফুটবলাররা ১টি হলুদ কার্ড দেখলেও আইভরি কোস্টের কেউ কোনো কার্ড দেখেনি। এছাড়া উভয় দলই ২টি করে অফসাইডের ফাঁদে পড়েছে এবং কর্নারের দিক থেকে আইভরি কোস্ট ১৪-৩ ব্যবধানে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে ছিল।