ক্রীড়া ডেস্ক
মাইকেল অলিস ছবি: গেটি ইমেজেস স্পোর্ট
বর্তমান ফুটবল বিশ্বে যেখানে বুট বা কিট স্পনসরশিপ থেকে খেলোয়াড়েরা কোটি কোটি টাকা আয় করছেন, সেখানে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম এক পথ বেছে নিয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের উদীয়মান ফরোয়ার্ড মাইকেল অলিস। স্পনসরশিপের মোটা অঙ্কের অর্থ আয়ের চেয়ে নিজের খেলার স্বাধীনতাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন এই ফরাসি তারকা।
জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের ম্যাচগুলোতে মাইকেল অলিসের পায়ের বুটের দিকে তাকালে একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায়—তিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্র্যান্ডের বুট পরে মাঠে নামেন না। এর পেছনের কারণটি সম্প্রতি প্রকাশ্যে এনেছেন তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
ফরাসি গণমাধ্যম ‘লেকিপ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অলিসের সেই বন্ধু জানান:
"অলিসের কোনো বুট চুক্তি বা স্পনসরশিপ নেই। এসব বিষয়ে তার বিন্দুমাত্র আগ্রহও নেই।"
ফুটবল বিশ্বে অলিসের মতো একজন তারকা ফুটবলারের কোনো বুট স্পনসরশিপ না থাকাটা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। সাধারণত বড় বড় ব্র্যান্ডগুলো এই মানের খেলোয়াড়দের নিজেদের ব্র্যান্ডের দূত করার জন্য কোটি কোটি টাকার প্রস্তাব নিয়ে মুখিয়ে থাকে। কিন্তু অলিস সেই পথে হাঁটেননি।
প্রতিটি ম্যাচে কোন বুট পরে খেলবেন, সেই স্বাধীনতা বজায় রাখাই অলিসের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর এই স্বাধীনতার জন্য তিনি প্রতিনিয়ত কোটি কোটি টাকা হাতছাড়া করছেন। অলিসের বন্ধু আরও একটি তথ্য শেয়ার করে জানান যে, বায়ার্ন মিউনিখে অলিসের সতীর্থ জামাল মুসিয়ালা স্পোর্টস ব্র্যান্ড ‘নাইকি’র সাথে চুক্তি বাবদ বছরে প্রায় ৬০ লাখ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা বিশাল অঙ্কের টাকা) আয় করেন।
মুসিয়ালার মতো অলিসও অনায়াসেই এমন একটি চুক্তি থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন ইউরো আয় করতে পারতেন। কিন্তু অলিস অত্যন্ত আনন্দের সাথেই সেই বিপুল অর্থ টেবিলের ওপর ফেলে রেখে নিজের মর্জিমতো বুট পরে মাঠে নামার স্বাধীনতা উপভোগ করছেন। ফুটবল দুনিয়ায় টাকার পেছনে না ছুটে এমন খেলার আনন্দকে প্রাধান্য দেওয়ার ঘটনা সত্যিই প্রশংসনীয়।