Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

অপ্রতিমের মায়ের আইফোন ছিল আটক তুহিনের বিছানার নিচে

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০২:৪১ পিএম
অপ্রতিমের মায়ের আইফোন ছিল আটক তুহিনের বিছানার নিচে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আটক প্রধান অভিযুক্ত তুহিন হোসেনের ঘরের বিছানার নিচ থেকে নিহতের মায়ের খোয়া যাওয়া আইফোনটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে ঘটনার দিন তুহিন কখন কোথায় ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন তার মা। তিনি জানান, ঘটনার দিন শুক্রবার জুমার পর থেকে রাত ৯টার মধ্যে তুহিন দফায় দফায় বাসা থেকে বের হওয়া ও ফিরে আসার ঘটনা ঘটায়।

অভিযান ও পারিবারিক বিবরণ অনুযায়ী, সাদা পোশাকের একদল পুলিশ সদস্য তুহিনকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে তল্লাশি চালাতে যান। এ সময় তুহিনের শয়নকক্ষের বিছানার নিচে লুকানো একটি কালো শপিং ব্যাগের ভেতর থেকে অপ্রতিমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

ছেলের গতিবিধি সম্পর্কে তুহিনের মা জানান, গত শুক্রবার জুমার নামাজ ও দুপুরের খাবার শেষে তুহিন বাড়ি থেকে বের হয়। বিকেলে একবার ঘরে ফিরে এলেও সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পর সে আবারও বাইরে চলে যায়। এরপর রাত ৯টার দিকে ফিরে এসে রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়ে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজের দিন শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত গন্ধমতী এলাকায় অপ্রতিমের মুঠোফোনের সর্বশেষ সক্রিয় অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছিল, যার পরই ডিভাইসটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখতে পায় পুলিশ। পরবর্তীতে তুহিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদসহ আরও দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জানিয়েছেন, উদ্ধার করা আলামত, মুঠোফোনের কল রেকর্ড ও সিসিটিভি ফুটেজের পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আটক মো. তুহিন হোসেনের বিরুদ্ধে এক যুবকের মোটরসাইকেল কৌশলে আত্মসাতের পুরোনো অভিযোগ সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী আসাদুল্লাহ সোহাগ নামের ওই যুবকের দাবি, এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় তৎকালীন সময়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সত্ত্বেও পুলিশ নিয়মিত মামলা না নিয়ে বিষয়টি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছিল। অতীতের সেই অপরাধে কোনো শাস্তি না পাওয়ায় তুহিন পরবর্তীতে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানোর দুঃসাহস দেখিয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে তুহিনের আটকের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পূর্বের সেই অভিযোগপত্রের অনুলিপি পোস্ট করেন সোহাগ। ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, তুহিন একই কৌশলে ডেকে নিয়ে তার মোটরসাইকেলটি আত্মসাৎ করেছিল। বিষয়টি নিয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের চাপের কথা উল্লেখ করে মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় এবং কেবল একটি জিডি লিপিবদ্ধ করে। ক্ষোভ প্রকাশ করে সোহাগ লেখেন, ‘ছোট অপরাধ পার পেয়ে গেলেই অপরাধীরা পরবর্তীতে বড় অপরাধ করার সাহস পায়।’

থানায় দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন সালমানপুর এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছিল। সোহাগের মা মরিয়ম আক্তার বাদী হয়ে তুহিন হোসেনসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের একটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ২ লাখ ৫ হাজার টাকায় একটি সুজুকি মনোটন মোটরসাইকেল কেনেন সোহাগ। পূর্বপরিচয়ের সুবাদে ২৬ এপ্রিল রাতে তুহিন গাড়িটি কিছুক্ষণের জন্য চালানোর কথা বলে নিয়ে যান। এরপর সোহাগকে জানানো হয় গাড়িটি আর তার কাছে নেই এবং পরবর্তীতে তা আর ফেরত দেওয়া হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পুরোনো এই অভিযোগপত্রের বিষয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, জিডির বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। অপ্রতিম হত্যা মামলার প্রাথমিক তদন্তের ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি খতিয়ে দেখা সম্ভব না হলেও তদন্তের স্বার্থে অতীতের এই অভিযোগটিও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হবে।

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোটবাড়ির বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও কুবি শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে অপ্রতিম। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকসংলগ্ন সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখতে পেয়ে শনিবার বিকেলে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনের বাড়ি থেকে খোয়া যাওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয় এবং এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আনাস ও ফাহিম নামের আরও দুই কিশোরকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

নিহত কিশোর অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান। গত শুক্রবার বিকেলে বাসা থেকে মায়ের ফোন নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ১২ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)