রমজান আলী, বেনাপোল
রোববার বিকেলে বেনাপোলের ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ বেজে ওঠে রণবাদ্য ছবি:
সীমান্ত মানেই কাঁটাতার নয়, নয় বিভেদ। মাঝেমধ্যে সীমান্ত হয়ে ওঠে সম্প্রীতি আর পেশাদারিত্বের এক অনন্য মিলনস্থল। গত ৫ এপ্রিল ২০২৬,রোববার বিকেলে যশোরের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে (আইসিপি) দেখা গেল এমনই এক দৃশ্য। যেখানে নীল আকাশ আর পড়ন্ত বিকেলের রোদে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শৌর্য-বীর্য।
সূর্য যখন পশ্চিম দিগন্তে হেলতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই বেনাপোলের ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ বেজে ওঠে রণবাদ্য। শুরু হয় বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) এবং বিএসএফের (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) যৌথ ‘রিট্রিট প্যারেড’। অত্যন্ত সুশৃঙ্খল আর ছন্দময় পদক্ষেপে দুই দেশের জওয়ানরা যখন নিজ নিজ জাতীয় পতাকা নামানোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন, তখন সেখানে উপস্থিত ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স (এনডিসি)-এর প্রতিনিধি দল মুগ্ধ হয়ে সেই দৃশ্য উপভোগ করেন। এটি কেবল একটি কুচকাওয়াজ নয়, বরং দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বজায় থাকা পেশাদারিত্ব এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারের এক জীবন্ত প্রতিফলন।
মেজর জেনারেল মো. মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে এনডিসি-এর ২৫ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলটির জন্য দিনটি ছিল বেশ কর্মব্যস্ত। বেনাপোল সদর ক্যাম্পে আয়োজিত কনফারেন্সে তারা জানতে পারেন সীমান্ত ব্যবস্থাপনার আধুনিক সব কৌশল সম্পর্কে। সীমান্ত দিয়ে কীভাবে চলে দুই দেশের বিশাল বাণিজ্যিক কর্মযজ্ঞ, কীভাবে প্রযুক্তির সহায়তায় নিশ্চিত করা হয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা—সবকিছুই হাতে-কলমে বোঝার সুযোগ পান প্রশিক্ষণরত এই উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন দলটির আগমনে বেনাপোলে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহমুদুল হাসান যখন ফুলেল শুভেচ্ছায় অতিথিদের বরণ করে নেন, তখন তা বাহিনীর ভ্রাতৃত্ববোধকেই ফুটিয়ে তোলে। খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান এবং যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খানসহ উপস্থিত উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আতিথেয়তা অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।