নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: এ আই ও ফটোশপের সাহায্যে তৈরি
একটি শখের মোটরসাইকেল হয়তো কেনা সম্ভব হতো আজ অথবা কাল, কিন্তু বিল্লালের জীবনটি আর ফিরে আসবে না। সামান্য বস্তুগত চাহিদাকে কেন্দ্র করে বড়দের ওপর অভিমান করে যশোর সদর উপজেলার সাতমাইল দক্ষিণ ললিতাদাহ গ্রামে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। পরিবারের অসমর্থতাকে মেনে নিতে না পেরে এক যুবক নিজের জীবনের ওপর চরম সিদ্ধান্ত টেনে নিয়েছেন, যা এলাকায় শোকের পাশাপাশি বিষণ্নতার ছায়া ফেলেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
নিহত বিল্লাল হোসেন (২৩) ছিলেন দক্ষিণ ললিতা এলাকার শাহাজানের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিল্লাল বেশ কিছুদিন ধরে একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য পরিবারের কাছে জেদ ধরে আসছিলেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি পুনরায় তার বাবার কাছে টাকা চান। কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিল্লালের বাবার পক্ষে তাৎক্ষণিক সেই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব ছিল না। বাবার এই অপারগতাকে সহজভাবে নিতে পারেননি তরুণ বিল্লাল।
জীবনের চেয়ে কি বস্তু বড়?
বাবার ওপর অভিমান করে বিল্লাল নিজ বাড়িতেই বিষাক্ত কীটনাশক পান করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে বিকেলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। হাসপাতালের বেডে যখন তার নিথর দেহ পড়ে ছিল, তখন সেখানে উপস্থিত আত্মীয়-স্বজনের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। একটি মোটরসাইকেল পাওয়ার জেদ যে এভাবে একটি পরিবারের প্রদীপ নিভিয়ে দেবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
পুলিশের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া
কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিষয়টিকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমৃত্যু হিসেবে দেখছে। মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
সামাজিক সচেতনতার আহ্বান
এই ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্তের করুণ ভয়াবহতা ও এর পরিণতি নিয়ে সরব হয়েছেন। তারা বলছেন, জীবনের মূল্য যেকোনো বস্তুগত সম্পদের চেয়ে অনেক বেশি। বাবা-মায়ের সামর্থ্য ও ভালোবাসাকে সম্মান জানানো এবং যেকোনো সংকটে ধৈর্যের পরিচয় দেওয়া প্রয়োজন।
আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান নয়। আজ যে সন্তানটি জেদ পূরণ না হওয়ায় প্রাণ দিলেন, তিনি একবারও ভাবেননি তার অবর্তমানে তার বাবা-মায়ের পৃথিবীটা কতটা অন্ধকার হয়ে গেল। তরুণ প্রজন্মের কাছে আবেদন—আবেগের বশবর্তী হয়ে এমন কোনো পথ বেছে নেবেন না, যা আপনার প্রিয়জনদের আজীবন কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেকোনো সমস্যায় কাছের মানুষের সাথে কথা বলুন, জীবনকে সুযোগ দিন।