নিজস্ব প্রতিবেদক
রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা নদী রক্ষা কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্য রখেন জেলা প্রশাসক ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর আইটি পার্ক (হাইটেক পার্ক) সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি ও খাল যখন ভরাট করা হয়, তখন জেলা প্রশাসনকে কিছুই জানানো হয়নি। দেশের বিদ্যমান আইন ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে, প্রশাসনকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে এই ভরাট কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা নদী রক্ষা কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেন।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, "আইটি পার্কের ওই অঞ্চলে জলাভূমি ও খাল ভরাট করে স্থাপনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হলো, কারা এই ভরাট কাজ করেছে তা জেলা প্রশাসন জানে না। কারণ যারা সে সময়ে কাজগুলো করেছিল, তা জেলা প্রশাসনকে বিন্দুমাত্র না জানিয়েই করা হয়েছে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জলাভূমি বা খাল ভরাট করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের বিশেষ অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এমনকি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করতে হলে যে কঠোর আইনি প্রক্রিয়া মানতে হয়, তার কোনটিই এক্ষেত্রে মানা হয়নি। জেলা প্রশাসক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ব্যক্তিগত মালিকানাধীন পুকুর ভরাট করতে গেলেও যেখানে আইনের অনুমোদন নিতে হয়, সেখানে একটি সরকারি প্রকল্পের নামে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে জলাভূমি ভরাট করা হয়েছে—যা অগ্রহণযোগ্য।"
সভায় জানানো হয়, নিয়মবহির্ভূতভাবে এই জলাভূমি ও খালগুলো ভরাট করার কারণেই গত বর্ষা মৌসুমে যশোরবাসীকে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে নাজির শংকরপুরসহ আশপাশের বিশাল এলাকার পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষ দীর্ঘ সময় পানিবন্দি ছিল। এই জনদুর্ভোগ লাঘবকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক নির্দেশ দিয়েছেন যে, পানি প্রবাহ সচল করতে আইটি পার্কের ভরাটকৃত এলাকার কিছু অংশ পুনরায় উন্মুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি হাইটেক পার্কের পাশ দিয়ে নতুন নালা বা ড্রেন নির্মাণের জন্য পৌরসভাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভায় জেলা প্রশাসক শুধুমাত্র শহর নয়, বরং পুরো জেলার জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮ উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং এসি ল্যান্ডদের প্রতিটি উপজেলায় পুনঃখননযোগ্য খালের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে যশোরে বিপুল সংখ্যক খাল খনন করা হয়েছিল, যা এখন সংস্কারের অভাবে মৃতপ্রায়। উলশীখালসহ এসকল পুরাতন খালগুলো দ্রুত পুনঃখননের আওতায় আনা হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সভায় জানানো হয়, যশোরের প্রায় আড়াইশ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে লিকুইড বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের জন্য কড়া চিঠি দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের ছাড়পত্র বাতিল করা হবে। এছাড়া মুক্তেশ্বরী নদীর ভাতুড়িয়া মৌজার জমি দখল সংক্রান্ত মামলা (নং ৫৩০/২৫) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ম্যাপ অনুযায়ী জমিটি নদীর অংশ হওয়ায় সরকারি স্বার্থ রক্ষায় পিপি যশোরকে আদালতে জোর লড়াই করার নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।