ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণাকালে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে ছবি: ধ্রুব নিউজ
শীতের বিকেলে সূর্যের তেজ যখন কমতে শুরু করেছে, ঝিকরগাছা আলিয়া মাদ্রাসা চত্বর তখন উত্তপ্ত এক ভিন্ন দ্রোহে। ব্যানার, ফেস্টুন আর শ্লোগানে মুখরিত চারপাশ। যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণাকালে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে আজ রাজপথে নেমেছিলেন হাজারো মানুষ। তবে এই মিছিলের সবচেয়ে উজ্জ্বল আর দৃপ্ত অংশটি ছিল নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
রাজপথে প্রতিবাদের জোয়ার
বিকেল ৪টা বাজতেই মিছিলটি আলিয়া মাদ্রাসা চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। হাতে হাত রেখে, কণ্ঠে শ্লোগান তুলে তারা জানান দিচ্ছিলেন—ভয় দেখিয়ে তাদের দমানো যাবে না। ‘নারীদের ওপর হামলা কেন? প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সন্ত্রাসীদের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’—এমন সব শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে ঝিকরগাছার আকাশ-বাতাস।
কী ঘটেছিল শ্রীচন্দ্রপুরে
ঘটনার সূত্রপাত আজ বেলা ১১টার দিকে। গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের শ্রীচন্দ্রপুর গ্রামে ১০-১২ জন নারী কর্মী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ করছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি কর্মী তাদের পথরোধ করে এবং হেনস্তা করে। খবর পেয়ে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপরও দেশীয় অস্ত্র ও পাইপ নিয়ে হামলা চালানো হয়। মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নেতৃত্বে নারী শক্তি
এদিনের মিছিলে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় মহিলা নেত্রীবৃন্দ। কেন্দ্রীয় নেত্রী ফিরোজা ইয়াসমিন বিউটি ও সেলিনা বেগমের উপস্থিতিতে স্থানীয় নারী কর্মীদের মাঝে বাড়তি উদ্দীপনা দেখা যায়। উপজেলা নেত্রী তহমিনা খাতুন শিখা, বিলকিস, শাহিনা, মাহফুজা ও মর্জিনাদের নেতৃত্বে নারীদের বিশাল বহরটি যেন এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর তৈরি করেছিল।
সমাবেশে উপস্থিত নারীদের কণ্ঠে ছিল ক্ষোভ আর বিচারের দাবি। তাদের দাবি, রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু প্রচারণাকালে নারীদের গায়ে হাত তোলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত নয়, বরং সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়।
নেতাদের হুঁশিয়ারি
উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল আলিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রচারণায় যারা নারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তারা কাপুরুষ। এই হামলা প্রমাণ করে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আমরা অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার দাবি করছি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। তারা স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের আইনের আওতায় না আনলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বিকেলের আলো ফুরিয়ে সন্ধ্যা নামলেও ঝিকরগাছার রাজপথ তখনো থমথমে। হাজারো মানুষের এই মিছিল আর নারীদের দৃপ্ত পদচারণা ঝিকরগাছাবাসীকে একটি বার্তাই দিয়ে গেল—অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নারী-পুরুষ আজ এক কাতারে।