ধ্রুব নিউজ
ছবি: সংগৃহীত
শেষ হলো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার বিদায় দেওয়া হয় দেবী দুর্গাকে। সেই সঙ্গে আসছে বছর আবারও মর্ত্যলোকে ফিরে আসবেন মা– এই প্রার্থনা জানান ভক্তরা।
সকাল থেকে ঢাকের বাদ্য আর উলুধ্বনির সঙ্গে মিশে ছিল বিদায়ের বিষাদ। দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার পর শেষবারের মতো তাঁর চরণে সিঁদুর ছুঁইয়ে প্রার্থনায় মগ্ন হন ভক্তরা। এর পর একে অপরের কপাল ও গালে সিঁদুর মাখিয়ে শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়। নাচে-গানে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করলেও মণ্ডপ ছেড়ে যাওয়ার সময় অনেকের চোখেমুখে ছিল বিষণ্নতা। দেবী বিসর্জনের দিনটিতে বিষাদের পাশাপাশি উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল সারাদেশ। হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে উৎসবে যোগ দেন অন্যান্য ধর্মের মানুষও।
এবার যশোর জেলায় ৭৩০টিসহ সারাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব হয়েছে।। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ-কল্যাণ ও সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নিরন্তর শান্তি-সম্প্রীতির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গত শুক্রবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই উৎসব। তবে এবার সপ্তমী তিথি দুই দিন পড়ায় প্রচলিত পাঁচ দিনের চেয়ে এক দিন বেড়ে ছয় দিন ধরে শারদীয় দুর্গাপূজা চলেছে। এই হিসাবে শনিবার মহাসপ্তমী ও রোববার মহাসপ্তমী (অধিক পূজা) উদযাপন হয়। এর পর সোমবার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা এবং মঙ্গলবার মহানবমী শেষে বুধবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ছয় দিনের শারদীয় দুর্গোৎসবের মিলনমেলা ভাঙল।
সনাতন বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে স্বর্গালোক থেকে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) এসেছিলেন (আগমন)। যার ফল হচ্ছে ‘ফসল ও শস্যহানি’। আর দেবী স্বর্গালোকে বিদায় (গমন) নিয়েছেন নৌকায় চড়ে। এর ফল ‘শস্যবৃদ্ধি’।
প্রতিমা বিসর্জনের আগে দিনব্যাপী পূজা-অর্চনা চলে। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় দশমী বিহিত পূজা। এর পর দর্পণ বিসর্জন দেওয়া হয়। চলে ভক্তদের আরতি আর রঙের হোলি খেলা। পরম ভক্তি নিয়ে নিজ নিজ মনের বাসনা জানিয়ে দেবীর পায়ে সিঁদুর ছোঁয়ান নারীরা। বিসর্জনের জন্য সধবা নারীরা দেবীকে সাজান ফুল, সিঁদুর ও নানা অলংকার দিয়ে। পুরোহিতরা দেবীর জন্য সাজান সেদ্ধ চালের নৈবেদ্য, কচু-ঘেচু, শাপলা দিয়ে। এর পর শেষ মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হয় দেবীকে।
যশোরে বিসর্জনের মূল অনুষ্ঠান হয় শহরের লালদীঘি পাড়ে। সন্ধ্যার পরপর শুরু হয় অনুষ্ঠান। এখানে ৬৬টি প্রতিমা বিসর্জন হয়।