নিজস্ব প্রতিবেদক
শহরে বিশাল মিছিল বের করে ১১ দলীয় ঐক্যজোট ছবি: ধ্রুব নিউজ
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে যশোরে বিশাল সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার দুপুরে শহরের ঈদগাহ জিরো পয়েন্ট মোড়ে এ সমাবেশ হয়। সমাবেশ শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পদক্ষিণ শেষে পুরাতন খুলনা বাসস্টান্ডে যেয়ে শেষ হয়।
শহরের ঈদগাহ মোড়ে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল।

মিছিল পূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় - ধ্রুব নিউজ
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম রসুল ১৯৭৭ ও ১৯৯১ সালের গণভোটের ইতিহাস টেনে বলেন, জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। ৭২-এর সংবিধানে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের কথা থাকলেও বাস্তবে তা কখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বর্তমান সংবিধান সংস্কার ছাড়া দেশে প্রকৃত সাম্য ও ন্যায়বিচার আসা সম্ভব নয়।
তিনি বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে যে দাবি করছেন তা মূলত জনগণের সাথে প্রতারণা। বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ এমনকি উচ্চ আদালতসহ প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিচারক নিয়োগ ও পুলিশের কার্যক্রমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি অবিলম্বে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানবলেন, জনগণের রায়কে সম্মান না করলে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর তার বক্তব্যে বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। একই সাথে এনসিপির জেলা সমন্বয়ক মো. নুরুজ্জামান বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সিদ্ধান্তকে অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।এছাড়াও বক্তব্য দেন এম এম কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদের এবং জেলা সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুসসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা একযোগে বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন, নতুবা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন” তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দাবি পূরণ না হলে আগামীতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রেজাউল করিম ও শামসুজ্জামানের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, এনসিপির জেলা সমন্বয়কারী নুরুজ্জামানসহ জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।