ধ্রুব ডেস্ক
দীর্ঘ দেড় বছর পর ৫ মিনিটের জন্য খুলনা মহানগর ও জেলা কার্যালয়ে গিয়েছেন নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা দেন তারা। একইসঙ্গে তারা জাতীয় পতাকা ধরে ছবি তোলেন। প্রায় ৫ থেকে ৭ মিনিট অবস্থানের পর তারা চলে যান। আজ রোববার বিকেলে খুলনা নগরীর শঙ্খ মার্কেটস্থ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এসব ঘটনা ঘটে।
এদিকে নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে যাওয়ার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাতে অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্ররা সেখানে যান। তারা কার্যালয়ের দরজা ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেন। ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই আগুন নিভে যায়।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট অভ্যুত্থান চলাকালে খুলনার আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ছাত্র-জনতার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে আন্দোলনকারী লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। পরে আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ অফিসে আগুন ছড়িয়ে দেয়। সেই থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থা পড়ে ছিল।

রাতে একদল যুবক পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ঢুকে আগুন লাগিয়ে দেয় সংগৃহীত
আজ সন্ধ্যায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক টি এম আরিফ হোসেন, সদর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়েজুল হক রুবেল, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন, জাকির হাসানসহ ১০-১২ জন নেতাকর্মী শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা দিচ্ছেন। এ সময় ছোট একটি জাতীয় পতাকা ধরে কয়েকজন ছবি তোলেন। পরে দ্রুত তারা চলে যান।
বিভিন্ন মাধ্যমে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে সদর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়েজুল হক রুবেল বলেন, ‘দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়ও আমরা লুটপাট করিনি। যার কারণে আমরা পালিয়েও যাইনি। এখন আমরা সুষ্ঠু রাজনীতি করতে চাই। এই বার্তা দিতেই পার্টি অফিসে গিয়েছি।’
খুলনা সদর থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, রাতে তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করে কয়েকজন ব্যক্তি। ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শী কাউকে পাওয়া যায়নি। আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। রাতে ছাত্ররা সেখানে আগুন দেয়। ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই আগুন নিভে যায়।
আহত জুলাইযোদ্ধা রাফসান জানি বলেন, ‘আমার শরীরে ১১টি গুলি লাগে। এখনও কষ্ট পাই। আমরা কষ্ট বয়ে বেড়াব, ওরা রাজনীতি করবে-এটা হতে দেব না।’