ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আসন্ন উপনির্বাচনে স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে চরম সংশয় প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনী মাঠে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের জোর দাবি জানিয়েছে দলটি। একইসঙ্গে পক্ষপাতিত্ব ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলামকে দ্রুত অপসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্যের কথা জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। জামায়াতের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে বৈঠকে সিইসির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ।
দীর্ঘ এক ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রকাশ্যে ও ব্যাপকভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “সদর উপজেলার ইউএনও খাইরুল ইসলাম শুরু থেকেই পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। তার বিরুদ্ধে প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়া, গোপনে বৈঠক, অর্থ লেনদেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। আমরা প্রমাণের পাশাপাশি ছবি, ভিডিও ও আহত নেতাকর্মীদের ছবি নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দিয়ে অপসারণের দাবি জানিয়েছি।”
ইসির ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে জামায়াত নেতা বলেন, “একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা বজায় রেখেই আমরা সুনির্দিষ্ট নয়টি অভিযোগ ও তিনটি দাবি পেশ করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যে কতটা অসহায় হতে পারে, আজকের বৈঠকে আমরা তা গভীরভাবে অনুভব করেছি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত শনিবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় একটি প্রতিনিধিদল ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনী এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই সিইসির কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় বিরোধী পক্ষের নেতাকর্মী, সংখ্যালঘু ভোটার ও সরকারি চাকরিজীবীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মসজিদে সভা-সমাবেশ, রঙিন প্রতীকের ব্যবহার, নির্ধারিত সময়ের আগেই মাইকিং এবং ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প চালুর মাধ্যমে প্রকাশ্য আচরণবিধি ভঙ্গ চলছে।
পুলিশের কার্যকারিতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা গেছে, শাসক দলের প্রভাবের কাছে অনেক সময় পুলিশ বাহিনী অসহায় হয়ে পড়ে। ১৯৯৪ সালের বিতর্কিত মাগুরা উপনির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেদিনের মতো যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। কেবল বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করলেই নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত হয় না, বরং দায়িত্বরত কর্মকর্তা নিরপেক্ষ কি না সেটাই মুখ্য। এই রাজনৈতিক চাপ পুলিশ পার করতে পারবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। তাই একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আমরা সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েনের স্পষ্ট দাবি জানাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে লড়ছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী মির্জা ফয়সল আমিন, যিনি বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই।