ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা সফরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর।
বৃহস্পতিবার দুপুরের পর তার ঢাকায় পৌঁছার তথ্য ও ছবি এক ফেইসবুক পোস্টে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস।
ওই পোস্টে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, “আমার বন্ধু, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।
“তার এই সফর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।”
গেল সেপ্টেম্বর থেকে ভারতে রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি এই অঞ্চলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা সার্জিও গরের এটিই প্রথম বাংলাদেশ সফর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক হবে এ মার্কিন কর্মকর্তার। সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
বাংলাদেশে সার্জিও গরের প্রথম সফরকে ‘এক্সপ্লোরেটরি বা উপলব্ধির সফর’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল।
সম্প্রতি ফিলিপিন্সের ম্যানিলাতে আসিয়ান আঞ্চলিক সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে খলিলুর রহমানের সাক্ষাতের সময় সার্জিও গরও উপস্থিত ছিলেন।
তার ঢাকা সফরে আলোচনার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তার সঙ্গে আমার ইতোমধ্যে ম্যানিলাতে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে, বৈঠক হয়েছে। আমরা এই দুদেশের সম্পর্ক রিভিউ করেছি।
“আপনারা জানেন, আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক, তারাও চাইছেন সম্পর্কটাকে আরো এগিয়ে নিতে—সে বিষয়ে। আর উনি কেবল ভারতে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত না, উনি আমেরিকান প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্য এশিয়া বিষয়ক প্রতিনিধি।”
খলিলুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশে এটা উনার প্রথম সফর এবং দক্ষিণ এশিয়া যেহেতু তার পোর্টফোলিওতে পড়ে, বাংলাদেশও তার অন্তর্গত। প্রথম সফর হিসেবে আমরা ধারণা করছি, এটা এক্সপ্লোরেটরি সফর।
“উনি বাংলাদেশ সম্পর্কে বুঝতে চাইবেন। শুধু আমাদের সঙ্গে না, অন্যান্য অনেক স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কথাবার্তা বলবেন।”
রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও তার সফরের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সম্পর্কে সার্জিও গর অবগত আছেন। রোহিঙ্গাদের জন্যে বৈদেশিক সাহায্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদানের পরিমাণ সর্বাধিক এবং বাংলাদেশ এটা ধন্যবাদের সঙ্গে স্বীকার করে।
“উনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবেন বলে আমরা আশা করছি। উনি পারস্পরিক সম্পর্কের সকল প্রধান প্রধান দিক বুঝবার চেষ্টা করবেন। তার জন্য এটা এক্সপ্লরেটরি বা উপলব্ধি সফর এবং আমরা তার সঙ্গে আলোচনা করব কালকে।”
২০২৫ সালের অগাস্টের শেষে সার্জিও গরকে ভারতে যুক্তরাষ্ট্র মিশনের দায়িত্বে পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ার সময় তাকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ বর্ণনা করেন ডনাল্ড ট্রাম্প।
ডনাল্ড ট্রাম্পের লেখা বই প্রকাশের পাশাপাশি তার ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারে কোটি কোটি ডলার তুলেছেন সার্জিও গর। ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অনুগত কর্মকর্তাদের নিয়োগেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মনে করা হয়।