ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকেই শিল্পাঞ্চলের বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর এবং নবীনগর-চন্দ্রা এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের বাড়তি উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এর আগে গতকাল সোমবার ছুটি ঘোষণার প্রথম দিনে দুপুরের পর থেকে মহাসড়কে যাত্রী এবং যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিকেলের দিকে বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে সড়কগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ এবং যানবাহনের ধীরগতি দেখা গেলেও কোথাও যানজটের খবর পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে মহাসড়কগুলোর বিভিন্ন পয়েন্টে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে কাঙ্ক্ষিত বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন হাজারো কর্মজীবী মানুষ।
পরিবার-পরিজন এবং ব্যাগপত্র নিয়ে তারা কাউন্টারগুলোতে ভিড় করতে শুরু করেছেন। তবে অনেকেই কাউন্টারে অতিরিক্ত দামে টিকিট কিনে এখনো গাড়ির দেখা পাচ্ছেন না। আবার অনেকেই টিকিট না পেয়ে বিকল্প পরিবহনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় অপেক্ষো করছেন। এ ছাড়া ঈদের দোহাই দিয়ে কিছু পরিবহনের বিরুদ্ধে দুই থেকে তিন গুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ থাকলেও এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের লোকজনের কোনো তদারকি দেখা যায়নি।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ার তৈরি পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর মহাসড়কগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ভিড় ও যানবাহনের চাপ দুটোই বেড়েছে। তবে যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় এবং পরিবহনসংকটকে দুই থেকে তিন গুণ বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার গার্মেন্টসকর্মী হাসনা বেগম বলেন, সকালে বাড়ির উদ্দেশে বের হলেও গাড়ি না পাওয়ায় রাস্তায় বসে আছি। সড়কে গাড়ির অনেক চাপ থাকলেও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত বাসে উঠতে পারছি না।
রংপুরের উদ্দেশ্যে সাভারের পাকিজা ইউটার্নে দাঁড়িয়ে থাকা চাকরিজীবী আফজাল হোসেন বলেন, সকাল থেকে কমপক্ষে এক শ গাড়িকে ভাড়া জিজ্ঞেস করলাম। কেউ ১৫ শ আবার কেউ ১৬ শ টাকা ভাড়া চাচ্ছে। যেখানে আমরা সব সময় ৫ শ টাকা ভাড়ায় যাওয়া-আসা করি।
তিন গুণ ভাড়া দিয়ে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বিধায় সড়কে দাঁড়িয়ে আছি। যে টাকা বেতন পেয়েছি, তাতে পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কেনাকাটা করে হাতে টাকা নেই।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে জানতে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
হাতে ব্যাগ এবং মাথায় বস্তা নিয়ে সোলেমান মিয়াকে দেখা যাচ্ছে দৌড়ে ট্রাকের দিকে যেতে। এগিয়ে গিয়ে দেখা যায়, ফিরতি গরুর ট্রাকে নিজের গন্তব্যে যাওয়ার জন্য হেলপারের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে দরদাম করছেন। কিন্তু দুজনের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় মুখ গোমরা করে দাঁড়িয়ে রইলেন তিনি।
সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহজাহান বলেন, শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করায় যাত্রীদের এই চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে এবং ঈদের আগের দিন পর্যন্ত মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের এই উপচেপড়া ভিড় ও চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। তাই যানবাহনের ধীরগতি থাকলেও কোথাও স্থায়ী যানজট নেই।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন জানিয়েছেন, ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি, ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে স্থানীয়ভাবে কমিউনিটি পুলিশ ও স্বেচ্ছাশ্রমে বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করছেন। কোথাও কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ধ্রুব/এস.আই