আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: আল জাজিরা
গাজা উপত্যকাজুড়ে চালানো একাধিক ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে একটি জানাজায় ড্রোন হামলায়। হামাসের সাথে নামেমাত্র "যুদ্ধবিরতি" চুক্তির ৯ মাস পার হলেও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই তা লঙ্ঘন করে চলেছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি ও একটি হাসপাতাল জানিয়েছে, শুক্রবার মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় বেসামরিক মানুষের একটি সমাবেশ লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলায় আটজন নিহত হয়েছেন। আল-আওদা হাসপাতাল জানিয়েছে, এতে অন্তত আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এদিন সকালে একই এলাকায় অন্য একটি হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজায় অংশ নিতে মানুষ আহমদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন। তারা জানাজা শুরুর অপেক্ষা করার সময় একটি ড্রোন তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার হানি মাহমুদ জানান, "যুদ্ধবিরতির কোনো তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না। জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষজন যখন মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই একটি ড্রোন ভেতর থাকা একদল মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।"
এএফপি নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে। সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে তারা মধ্য গাজায় একটি "সন্ত্রাসী" দলকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছিল। তবে তারা আরও জানায়, "হামলার ফলে বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবির বিষয়ে তারা অবগত এবং হামলার ফলাফল খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"
এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, "এই জঘন্য অপরাধ এমন এক সময়ে ঘটছে যখন আক্রমণকারী শাসকগোষ্ঠী গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়মতান্ত্রিক ও ক্রমাগত লঙ্ঘন করে মধ্যস্থতাকারী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখের সামনে নিরপরাধ নাগরিকদের হত্যা ও আতঙ্কিত করে চলেছে।"
‘ড্রোন দিয়ে ঘেরা আকাশ’ ফিলিস্তিনি ওয়াফা নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার ভোরের দিকে উত্তরের শহর বেইত লাহিয়ার আবু তামাম স্কুলের কাছে ইসরায়েলি ড্রোনের বোমা হামলায় ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। মধ্য গাজার আজ-জাওয়াইদা শহরে ফিলিস্তিনিদের একটি সমাবেশ লক্ষ্য করে চালানো আরেকটি ইসরায়েলি হামলায় একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি আশ্রয়স্থলে ইসরায়েলি হামলায় একজন নিহত হন। অন্যদিকে, গাজা সিটিতে একটি অ্যাপার্টমেন্টে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত এবং শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এছাড়া খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইসরায়েলি গুলিতে আহত এক নারী মারা গেছেন।
গত অক্টোবরে কাগজে-কলমে "যুদ্ধবিরতি" কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েল নিয়মিতভাবে গাজা জুড়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
‘আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা’ (এসিএলইডি) নামক একটি গবেষণা গ্রুপ বুধবার জানিয়েছে, মে মাস থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটি জানায়, গত মাসে ৪০টিরও বেশি হামলা হয়েছে—যা "যুদ্ধবিরতি" শুরু হওয়ার পর থেকে এক মাসে সর্বোচ্চ হামলার রেকর্ড। এই বৃদ্ধি গাজায় ইসরায়েলের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ আদেও কখনো শেষ হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
আল জাজিরার হানি মাহমুদ বলেন, "গাজা উপত্যকার আকাশ ড্রোনে ছেয়ে গেছে। সব জায়গায় এই ড্রোনগুলোর যান্ত্রিক আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। এর পাশাপাশি অবশিষ্টাংশ অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করার কাজও চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।"
ইসরায়েলি সংবাদপত্র হ্যারেটজ শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েল শিশুদের হত্যা করাকে যেন "নিয়মিত অভ্যাসে" পরিণত করেছে। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২৭৪ জন শিশু নিহত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে গড়ে প্রতিদিন একজন করে শিশু নিহত হয়েছে।