ক্রীড়া ডেস্ক
পুরো মৌসুম জুড়ে ১১ গোল করে এভা পাহোর হয়েছেন লীগের টপ স্কোরার ছবি: বার্সেলোনা অফিসিয়াল
কথায় বলে, নিয়তি মানুষকে দিয়ে চরম পরীক্ষা নেয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অধ্যবসায়ের জয় ঠিকই হয়। পোলিশ স্ট্রাইকার এভা পাহোরের ক্যারিয়ারের গল্পটা যেন তারই এক জীবন্ত প্রমাণ। দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষা, পাঁচ-পাঁচটি ফাইনালের হৃদয়ভঙ্গ—সব কিছুকে পেছনে ফেলে অবশেষে ইউরোপ সেরার মুকুট মাথায় তুললেন এই গোলমেশিন।
নরওয়ের উলেভাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৫/২৬ সিজনের উয়েফা ওমেন্স চ্যাম্পিয়নস লীগ ফাইনালে অলিম্পিক লিওনকে ৪-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা ফেমেনি। আর বার্সার এই চতুর্থ শিরোপা জয়ের রাতে রূপকথার নায়ক আর কেউ নন, স্বয়ং এভা পাহোর। ফাইনালে জোড়া গোল এবং এক অ্যাসিস্ট করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন তিনি।
ফাইনালের রোমাঞ্চ ও পাহোর-ম্যাজিক
ম্যাচের প্রথমার্ধে বার্সেলোনাকে বেশ চেপে ধরেছিল লিওন। ম্যাচের ১৬ মিনিটে অল্পের জন্য গোল খাওয়া থেকে বেঁচে যায় বার্সা কোচ পেরে রোমেউয়ের শিষ্যরা। তবে গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর সেকেন্ড হাফেই খোলস ছেড়ে বের হয় কাতালানরা।
৫৫ মিনিট: প্যাট্রিসিয়া গুইজারোর পাস থেকে লক্ষ্যভেদ করে বার্সাকে লিড এনে দেন পাহোর।
৬৯ মিনিট: সালমা পারায়ুয়েলোর অ্যাসিস্ট থেকে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে ব্যবধান ২-০ করেন এই পোলিশ ফরোয়ার্ড।
৯০ ও ৯৩ মিনিট: শেষ মুহূর্তে লিওনের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন প্যাট্রিসিয়া ও সালমা (পাহোরের অ্যাসিস্টে)।
২০১৬ সালে ইতালির মাপেই স্টেডিয়ামে যে যাত্রার শুরু হয়েছিল, তা পূর্ণতা পেল ২০২৬ সালে এসে। এর আগে ক্যারিয়ারে ৫ বার চ্যাম্পিয়নস লীগের ফাইনাল খেললেও প্রতিবারই রানার্স-আপ মেডেল নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল পাহোরকে।
জার্মান ক্লাব ভিএফএল উলফসবার্গের হয়ে চারবার (২০১৬, ২০১৮, ২০২০ এবং ২০২৩) ফাইনালে উঠেও শিরোপা ছোঁয়া হয়নি তার। এর মধ্যে তিনবার লিওন এবং ২০২৩ সালে এই বার্সেলোনার কাছেই হারতে হয়েছিল তাকে।
বার্সেলোনায় রেকর্ড ট্রান্সফার ও ধাক্কা
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে রেকর্ড ০.৫ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে বার্সেলোনায় যোগ দেন পাহোর। যা ছিল জার্মান লীগ থেকে আসা কোনো নারী ফুটবলারের জন্য সর্বোচ্চ রেকর্ড। কিন্তু বার্সার জার্সিতে নিজের প্রথম ফাইনালে (গত সিজনে) ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে ফের স্বপ্নভঙ্গ হয় তার।
টানা পাঁচবার ফাইনাল হারের পর ২০২৫/২৬ সিজনে যেন অলআউট খেলতে নেমেছিলেন পাহোর। পুরো টুর্নামেন্টে অবিশ্বাস্য ফর্মে থেকে ১১ গোল করে হয়েছেন আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা (টপস্কোরার)।
ট্রফি উদযাপনের সময় এভা পাহোরের চোখেমুখে আনন্দের চেয়ে স্বস্তির ছাপটাই ছিল বেশি স্পষ্ট। ২০১৬ থেকে ২০২৬—দীর্ঘ ১০ বছরের এই বন্ধুর পথচলা শেষে ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরে পাহোর প্রমাণ করলেন, লড়াকু সৈনিকদের গল্প কখনো ব্যর্থতায় শেষ হয় না।