নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ ইস্টার সানডে: উৎসবে মাতবে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা ছবি: সংগৃহীত
খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ আজ রোববার (৫ এপ্রিল)। দিনটি উপলক্ষে যশোর জেলাজুড়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন গির্জায় দিনব্যাপী বিশেষ ধর্মীয় কর্মসূচি ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
খ্রিষ্টধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, পুণ্য শুক্রবার (গুড ফ্রাইডে) ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করার তৃতীয় দিনে অর্থাৎ রবিবারে অলৌকিকভাবে পুনরুত্থিত হয়েছিলেন প্রভু যিশু খ্রিষ্ট। যিশুর এই ফিরে আসাকে ঘিরেই বিশ্বব্যাপী খ্রিষ্টান সম্প্রদায় পরম আনন্দ ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ‘ইস্টার সানডে’ পালন করে। এটি পাপের ওপর পুণ্যের জয় এবং মৃত্যুর ওপর জীবনের বিজয়ের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। দীর্ঘ ৪০ দিনের সংযম ও কৃচ্ছ্রসাধনা শেষে এই উৎসবের মাধ্যমে তারা আনন্দ উদ্যাপন করেন।
যশোরে দিবসটি উদযাপনে গির্জাগুলোতে আজ বিশেষ প্রার্থনা, ধর্মীয় আলোচনা ও প্রীতিভোজসহ নানা আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়েছে। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অনুসারীরা ইতোমধ্যে গির্জা ও ঘরবাড়ি আলোকসজ্জা ও ধোয়া-মোছার কাজ শেষ করেছেন। আজ ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই শুরু হয়েছে যিশুর পুনরুত্থান স্মরণে বিশেষ উপাসনা ও কীর্তন।
উৎসবটি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শহরের প্রধান গির্জাগুলোতে ভক্তদের উপস্থিতি ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক দলও নিয়োজিত রয়েছে। শিশুদের জন্য বিশেষ উপহার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে অনেক গির্জা প্রাঙ্গণে।
যশোরের বিভিন্ন গির্জার ধর্মযাজকগণ আজ তাদের বাণীতে বিশ্বশান্তি ও ভ্রাতৃত্ববোধের আহ্বান জানাবেন। যিশু খ্রিষ্টের পুনরুত্থানের মহিমায় মানুষের মধ্যে প্রেম ও ক্ষমার আদর্শ ছড়িয়ে পড়ুক—এটাই আজ সবার প্রার্থনা।