নিজস্ব প্রতিবেদক
বই মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসন আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বইমেলা আজ রবিবার (২৪ মে) সমাপ্ত হয়েছে। নতুন প্রজন্মের মাঝে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে গত ২২ মে থেকে এই মেলা শুরু হয়েছিল। মেলায় বই প্রদর্শনী ও বিক্রয়ের পাশাপাশি প্রতিদিন আবৃত্তি ও আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় ।
সমাপনী দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ।
তিনি বলেন, "খুবই স্বল্প সময়ের প্রস্তুতিতে এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও আমরা এত বড় একটি ইভেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। তিন দিনই এখানে হাজারের অধিক মানুষের সমাগম হয়েছে, আমাদের বাচ্চারা পারফর্ম করেছে। সামগ্রিকভাবে একটি চমৎকার পরিবেশ ছিল।"
কেবল আশার কথা নয়, বরং সুদৃঢ় নিশ্চয়তা দিয়ে প্রধান অতিথি বলেন, এটি কেবল একটি যাত্রার শুরু। সকলের সহযোগিতায় সামনের দিনে সাত দিন, ১৫ দিন বা মাসব্যাপী আরও বড় পরিসরে বইমেলার আয়োজন করা হবে। আগামী মেলাগুলোতে শতাধিক স্টল থাকবে এবং আয়োজন আরও জাঁকজমকপূর্ণ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সমাজ ও জাতির অস্তিত্ব রক্ষায় বইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে খান মাসুম বিল্লাহ আক্ষেপ করে বলেন,"দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, আমাদের লাইব্রেরির সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং ফাস্টফুড ও ওষুধের দোকানের সংখ্যা বাড়ছে। এই অবস্থাকে আমাদের উল্টে দিতে হবে। বই পড়া এবং বইয়ের দোকান বাড়াতে হবে। কারণ জ্ঞানভিত্তিক জাতি তৈরি করতে না পারলে আমরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারব না। আর বই পড়া ছাড়া জ্ঞানার্জনের বিকল্প নেই।
মেলায় অংশ নেওয়া ‘রয়েল বুক ডিপো’র স্বত্বাধিকারী এম জাহিদ হাসান মেলার সার্বিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, খুবই সংক্ষিপ্ত সময়ের প্রস্তুতিতে মেলা হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের বড় অংশই মেলা সম্পর্কে জানতে পারেনি। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় মেলায় আশানুরূপ জনসমাগম হয়নি। তবে উদ্বোধনী দিনে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা আসায় সেদিন ভালো বেচাকেনা হয়েছিল।
ঢাকা বইমেলার দীর্ঘ প্রস্তুতির উদাহরণ টেনে তিনি যশোরেও আগামীতে ১৫ দিন বা মাসব্যাপী মেলা আয়োজনের ঘোষণাকে সাধুবাদ জানান।
ভবিষ্যতে মেলাকে আরও প্রাণবন্ত করতে জাহিদ হাসান জেলা প্রশাসকের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখেন। তিনি অনুরোধ করেন,
"বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বা পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার সময় পুরস্কার হিসেবে জগ, মগ বা গ্লাসের মতো জিনিস দেওয়া হয়। এগুলো না দিয়ে যেন শিক্ষার্থীদের বই উপহার দেওয়া হয়। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে একটা ভালো বই দিলে ছাত্র-ছাত্রী ও দেশবাসী অনেক বেশি উপকৃত হবে ।
ধ্রুব/এস.আই