শার্শা(যশোর) প্রতিনিধি
রাজনীতি মানেই কি পাজেরো গাড়ির সাইরেন আর দূর থেকে হাত নাড়ানো? শার্শার মানুষ গত কয়েক দশকে এমনটাই দেখে এসেছেন। কিন্তু রোববার ভোরে নাভারণ বাজারের মানুষ যা দেখলেন, তাতে তাদের চোখ কপালে ওঠার দশা। পাজামা-পাঞ্জাবি পরা, মাথায় টুপি, হাতে ঝাড়ু—যিনি ড্রেন আর রাস্তার ময়লা পরিষ্কার করছেন, তিনি অন্য কেউ নন; তিনি তাদেরই বিপুল ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমান।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঠিক সকাল ৭টা। নাভারণ বাজারের ব্যবসায়ীরা যখন দোকান খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই এক ঝাঁক কর্মী নিয়ে হাজির হন সংসদ সদস্য। তবে তিনি কেবল তদারকি করতে আসেননি, নিজেই ঝাড়ু হাতে নেমে পড়লেন ময়লা অপসারণে।
নির্বাচনের আগে কত নেতা কতশত প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু মাওলানা আজীজুর রহমান যেন পথ দেখালেন ভিন্নভাবে। ‘প্রতিশ্রুতি নয়, কাজে বিশ্বাস’—এই মন্ত্রকে সামনে রেখে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, তিনি জনগণের ওপর ছড়ি ঘোরানো কোনো 'শাসক' নন, বরং তিনি একজন 'সেবক'। জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে শার্শা ইউনিয়ন জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বাজারের প্রতিটি কোণ থেকে আবর্জনা হটিয়ে এক স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ গড়ার কাজ শুরু করলেন তিনি।
এ সময় সংসদ সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমান অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলেন, "জনসেবার রাজনীতি কেবল মঞ্চের বক্তব্যে সীমাবদ্ধ রাখার জিনিস নয়। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বাস্তব কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হয়। আমরা সবাই মিলে যদি নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখি, তবেই আমাদের শার্শা হবে আধুনিক ও বাসযোগ্য।’
এমপি নিজেই রাস্তায় ঝাড়ু দিচ্ছেন—এমন দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়িয়েছেন পথচারীরা। ভ্যানচালক আবু সাঈদের চোখেমুখে তখন অন্যরকম এক তৃপ্তি। তিনি বলেই ফেললেন, আমার জীবনে শার্শায় এমন একজন এমপি দেখিনি, যিনি নিজেই আগে ঝাড়ু হাতে নেমেছেন। আজ উনাকে দেখে আমরা সত্যিই অনুপ্রাণিত।
ব্যবসায়ী হাসান আহমেদ তো আরও এক ধাপ এগিয়ে বললেন, নাভারণ বাজারে এই প্রথম কোনো সংসদ সদস্যকে নিজ হাতে ময়লা পরিষ্কার করতে দেখলাম। এটি আমাদের জন্য শুধু গর্বের নয়, বরং এক অনন্য দৃষ্টান্ত। পথচারী আসাদুজ্জামানের মতে, এটি কেবল পরিচ্ছন্নতা অভিযান নয়, শার্শার রাজনীতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের শুভ সূচনা।
ব্যতিক্রমী এই জনসম্পৃক্ততামূলক কর্মসূচিতে সংসদ সদস্যের ছায়াসঙ্গী হিসেবে ছিলেন থানা সেক্রেটারি মো. জাহাঙ্গীর আলম, শার্শা ইউনিয়ন আমীর মাওলানা আবু ইয়াহইয়া এবং নাভারণ উন্নয়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।