নিজস্ব প্রতিবেদক
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক অভিভাবক বা জেলা পর্যায়ের কার্যকর প্রতিনিধি পেতে যাচ্ছে যশোর। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ (সদর) আসন থেকে ২ লাখ ১ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হওয়ার পর, এবার নতুন মন্ত্রিসভার জন্য ডাক পেয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
যশোরের রাজনীতির কিংবদন্তি এবং সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম ছিলেন এই জেলার সর্বশেষ প্রভাবশালী পূর্ণ মন্ত্রী। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তিনি চারটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং আধুনিক যশোরের রূপকার হিসেবে সমাদৃত হয়েছিলেন। ২০১৮ সালে তার প্রয়াণের পর যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তার যোগ্য উত্তরসূরি অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের হাত ধরে তা নতুন রূপ পাচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বিকেলে অনুষ্ঠিতব্য শপথ অনুষ্ঠানের জন্য তিনি আমন্ত্রণ পেয়েছেন।
মাঝখানের সময়ে যশোর জেলা থেকে আওয়ামী লীগ নেত্রী ইসমাত আরা সাদেক প্রতিমন্ত্রী (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি যশোর জেলার সন্তান এবং কেশবপুর আসনের প্রতিনিধি হলেও, তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও উন্নয়ন পরিকল্পনা মূলত কেশবপুর কেন্দ্রিক ছিল। ফলে যশোর সদরসহ পুরো জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে তিনি বিশেষ কোনো বড় ভূমিকা রাখতে পারেননি বলে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ছিল। দীর্ঘ ১৭ বছর পর সদরের আসন থেকে সরাসরি মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধি পাওয়ায় সেই আক্ষেপ ঘুচতে চলেছে বলে মনে করছে জেলাবাসী।
নির্বাচনী প্রচারণাকালে এমপি অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি নির্বাচিত হলে যশোরে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করবেন। সবজির জন্য হিমাগার তৈরি করবেন। এখন মন্ত্রিসভায় তার অন্তর্ভুক্তি এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলোকে আরও বেগবান করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।