আল–জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক ও একেকটি ২০০০ পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের মোট ৬০ হাজার বোমা বিক্রি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে কয়েক শ কোটি ডলারের একটি চুক্তি সই করছে দুই দেশ। আর মার্কিন করদাতাদের অর্থে বিশাল অঙ্কের এ চুক্তির ব্যয় মেটানো হবে।
মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে অস্ত্রভান্ডারের সবচেয়ে মারাত্মক ও বিধ্বংসী এ যুদ্ধাস্ত্র ইসরায়েলের কাছে বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত অনানুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন কংগ্রেসকেও জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এর আগে কখনো একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক বোমা ইসরায়েলে পাঠায়নি। গাজায় প্রায় তিন বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের অনবরত সহিংসতা ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানের মধ্যেই এ বিশাল অঙ্কের অস্ত্র চুক্তির বিষয়টি সামনে এল। এসব হামলায় মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ বাসিন্দা।
যুক্তরাষ্ট্র এমন এক সময় ইসরায়েলকে বিপুল পরিমাণ এসব বোমা সরবরাহ করতে যাচ্ছে, যখন ইরান যুদ্ধের কারণে তাদের নিজেরই অস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসছে বলে জানা গেছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের কারণে এ সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, মার্কিন প্রশাসন আসলে ইসরায়েলকে কোন ধরনের বোমা দিচ্ছে? মারণাস্ত্রগুলো দিয়ে ইসরায়েল নতুন করে কী ধরনের আগ্রাসন চালাতে পারে?
কোন ধরনের অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা
ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, সব সময়ই একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় বিদেশে অস্ত্র বিক্রি করা হয়। তবে প্রক্রিয়াধীন কোনো চুক্তির বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র এএফপিকে বলেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক নীতি অনুযায়ী কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার আগে পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির বিষয় নিশ্চিত করে না বা এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করে না।
তবে বিভিন্ন সূত্রের খবর, ওয়াশিংটন ইসরায়েলের কাছে ৬০ হাজার শক্তিশালী বোমা সরবরাহের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। সম্ভাব্য চুক্তির অধীন ২০ হাজার এমকে-৮৪ বোমা, ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ বোমা ও বাংকার ধ্বংস করতে সক্ষম ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর বোমা ইসরায়েলের কাছে বিক্রি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশাল এ অস্ত্র চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ২৮০ কোটি ডলার। এ ব্যয়ের সিংহভাগই মেটানো হবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং’ নামের বিশেষ কর্মসূচির আওতায়। এই ব্যবস্থায় ওয়াশিংটন মূলত তার নিজস্ব করদাতাদের তহবিল থেকে ইসরায়েলকে অর্থ দেয়, যাতে দেশটি সেই অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারে।
সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে তিন ধরনের বোমা সরবরাহ করবে, তা আগেই বলা হয়েছে। বোমাগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক—
এটি মূলত মার্ক ৮০ সিরিজের বোমার মধ্যে সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী। প্রায় ২ হাজার পাউন্ড বা ৯০৭ কেজি ওজনের বোমাটি মূলত বড় বড় ভবন ও মাঝারি ধরনের সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে সর্বোচ্চ মাত্রার বিস্ফোরণ ঘটাতে তৈরি করা হয়েছে।
এমকে-৮৪ যেখানে আঘাত হানে, সেখান থেকে শত শত মিটার দূর পর্যন্ত ভবন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারে। তবে বোমাটি সব সময় নিশানায় নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম নয়।
বিএলইউ-১১৭
এটিও প্রায় ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা। দেখতে হুবহু এমকে-৮৪ বোমার মতো হলেও এর ভেতরে ভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়।
এ বোমায় নিখুঁতভাবে নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম প্রযুক্তি যুক্ত করা যায়। মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে নিরাপদে রাখার জন্য এই বোমার গায়ে বিশেষ এক ধরনের তাপ প্রতিরোধী প্রলেপ দেওয়া থাকে।
আই-২০০০ পেনিট্রেটর
এ বোমা সাধারণত ‘বাংকার বাস্টার’ নামে পরিচিত। প্রায় ২ হাজার পাউন্ডের এ শক্তিশালী মারণাস্ত্র মাটির নিচে বা কংক্রিটের অত্যন্ত শক্ত কোনো কাঠামো ভেদ করে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। এ বিশেষ সক্ষমতার কারণে এর বাইরের ধাতব আবরণ এমকে-৮৪ বোমার চেয়ে অনেক বেশি পুরু ও শক্ত হয়ে থাকে।
এর আগে ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ইসরায়েলে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমার কিছু সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। বিভিন্ন হামলায় অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে সে সময় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে সেই স্থগিতাদেশ পুরোপুরি তুলে দেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি কংগ্রেসের পর্যালোচনা ছাড়াই ইসরায়েলের কাছে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেন।
এই মারণাস্ত্রের মধ্যে ৩৫ হাজার ৫০০টির বেশি শক্তিশালী বোমা ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন ইসরায়েলের কাছে আরও ৬৬৭ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়।
ইসরায়েল আগে কখন এত ওজনের বোমা ব্যবহার করেছে
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং লেবাননে প্রায় চার দশক ধরে ২ হাজার পাউন্ডের এসব শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করে আসছে ইসরায়েল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর গাজায় পুরোদমে যুদ্ধ শুরু করার বহু আগে থেকেই এ ধ্বংসাত্মক মারণাস্ত্র ব্যবহার করছে দেশটি।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৮১ সালে ইরাকের বাগদাদের কাছে একটি পারমাণবিক চুল্লি ধ্বংস করতে ‘অপারেশন অপেরা’ নামে এক অভিযান চালিয়েছিল ইসরায়েল। সেই অভিযানে এসব বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। এর ঠিক পরের বছর লেবানন ও সিরিয়াতেও এ ধরনের বোমাবর্ষণ করে তারা। এতে সে সময় বহু বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছিলেন।
প্রতিরক্ষা নীতিবিষয়ক গবেষণা ও বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান প্রজেক্ট অন ডিফেন্স অলটারনেটিভসের (পিডিএ) তথ্য অনুযায়ী, একটি ২ হাজার পাউন্ডের বোমা বিস্ফোরণের স্থান থেকে ৩৫ মিটার বা ১১৫ ফুটের ভেতরের সবকিছু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, জখম কিংবা সম্পূর্ণ ঝাঁঝরা করে দিতে পারে। মাটির ধরনভেদে এ বোমা বিস্ফোরণের ফলে প্রায় ৫০ ফুট (১৫ মিটার) চওড়া ও ১৬ ফুট (৫ মিটার) গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়।
গাজায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ইসরায়েল এসব বিধ্বংসী বোমা আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘন ঘন ব্যবহার করছে।
২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর গাজা নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে একটি ২ হাজার পাউন্ডের বোমা ফেলেছিল ইসরায়েল। বোমায় বিধ্বস্ত ভবনগুলোর মধ্যে এক বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়। ডজন ডজন বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারান। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় সে সময় জানিয়েছিল, ইসরায়েলের এ বোমা হামলা যুদ্ধাপরাধ বলে গণ্য হতে পারে।
২০২৪ সালের নভেম্বরের দিকে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে ওয়াশিংটন এ আদালতের এখতিয়ার ও আইনি কর্তৃত্ব উপহাস করে উড়িয়ে দিয়েছে।
বোমাগুলো কতটা প্রাণঘাতী
আল-জাজিরার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দ্য রেস্ট অব দ্য স্টোরির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গাজায় এমন অন্তত ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনির খোঁজ পেয়েছে উদ্ধারকারী দল, যাঁরা বোমার আঘাতে একপ্রকার হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন। হামলার পর ঘটনাস্থলে তাঁদের রক্তের দাগ বা মাংসের ছোট ছোট টুকরা ছাড়া মরদেহের আর কোনো অবশিষ্টাংশ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এ ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ থার্মাল ও থার্মোবারিক অস্ত্রের (যা সাধারণত ভ্যাকুয়াম বা অ্যারোসল বোমা নামে পরিচিত) ব্যবহারকে দায়ী করেছেন। ইসরায়েলের ব্যবহার করা শক্তিশালী এসব বোমা বিস্ফোরণের মুহূর্তে ৩ হাজার ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা তৈরি করতে সক্ষম।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটিতে দেখানো হয়েছে, কীভাবে ইসরায়েলি গোলাবারুদের বিশেষ রাসায়নিক মিশ্রণ মাত্র কয়েক সেকেন্ডে মানুষের শরীর পুড়িয়ে ছাইয়ে পরিণত করে। গাজায় মানুষের এভাবে উধাও হয়ে যাওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি সুনির্দিষ্ট কিছু মারণাস্ত্র চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে এমকে-৮৪ এবং বিএলইউ সিরিজের বাংকারবিধ্বংসী বোমাগুলো অন্যতম।
রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ ভাসিলি ফাতিগারভ বলেন, এ আধুনিক অস্ত্রগুলো শুধু মানুষকে মেরেই ফেলে না, বরং যেকোনো বস্তু পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেয়। এই বোমার আগুনকে দীর্ঘস্থায়ী করতে রাসায়নিক মিশ্রণের সঙ্গে অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও টাইটানিয়ামের গুঁড়া যোগ করা হয়। ফলে বিস্ফোরণের সময় তাপমাত্রা আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসে উন্নীত হয়, যা মানব শরীরকে মুহূর্তে নিশ্চিহ্ন করার জন্য যথেষ্ট।
৬০ হাজার বোমা সরবরাহ কতটা তাৎপর্যপূর্ণ
এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হিসাব করলে, ২ হাজার পাউন্ডের ৬০ হাজার বোমার ওজন দাঁড়ায় প্রায় ৫৪ হাজার ৪০০ টন। বিশাল ওজনের এত বোমা কতটা প্রলয়ংকরী হতে পারে, তা কিছু তুলনামূলক উদাহরণ দিলে সহজে বোঝা যাবে। এ ওজন নিউইয়র্কের বিখ্যাত এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের পুরো ইস্পাতের কাঠামোর ওজনের প্রায় সমান অথবা প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের মূল লোহার কাঠামোর চেয়ে প্রায় সাত গুণ বেশি ভারী।
১৯৪৫ সালের মার্চে জাপানের টোকিওতে চালানো ভয়াবহ বোমা হামলায় এক রাতেই ৮০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। সেই রক্তক্ষয়ী হামলায় মোট ১ হাজার ৬০০ টনের বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। সে তুলনায় ইসরায়েলে প্রায় ৩৫ গুণ বেশি ওজনের বোমা পাঠানো হবে।
আরও বড় পরিসরে তুলনা করলে, এই ৫৪ হাজার ৪০০ টন বোমার ওজন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে জার্মানির বার্লিন শহরের ওপর ফেলা সব বোমার মোট ওজনের প্রায় সমান। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের মূল ভূখণ্ডে ফেলা মোট বোমার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ওজনের সমান যুদ্ধাস্ত্র এবার এককভাবে ইসরায়েলকে দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্র কি নিজেই গোলাবারুদ সংকটেহ্যাঁ, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (পেন্টাগন) একটি বিশেষ নজরদারি প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত সোমবার প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের কারণে ওয়াশিংটনের গোলাবারুদের ভান্ডার, বিশেষ করে অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ফলে দেশটির সামরিক খাতের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।
পেন্টাগনের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংকট কমাতে তারা বর্তমানে অস্ত্র কেনার প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি উৎপাদনের সময়সীমা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ উপাদান, যন্ত্রাংশ ও সুনির্দিষ্ট কিছু গোলাবারুদ নতুন করে মজুত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে তাদের ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে চমৎকার ও উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্র তৈরি করছে। এ আধুনিক অস্ত্রগুলো মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অঞ্চলে থাকা আমাদের সামরিক বাহিনীর কাছে প্রতিদিন সরবরাহ করা হচ্ছে।’
বোমা বিক্রি নিয়ে প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক বোমা বিক্রিসংক্রান্ত খবর প্রকাশ্যে আসার পর দেশটির রাজনৈতিক মহলে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিশ্লেষক টাকার কার্লসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, গাজায় নেতানিয়াহু সরকার যা করেছে, তা মূলত গণহত্যা। নতুন করে ট্রাম্প প্রশাসনের পাঠানো হাজার হাজার বোমা লেবানন এবং সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোতেও একই ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে ব্যবহার করা হবে।
অন্যদিকে মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন এ অস্ত্র বিক্রি আটকে দিতে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ তুলেছেন, মার্কিন করদাতাদের টাকায় কেনা বোমাগুলো এমন একটি সরকারের কাছে পাঠানো হচ্ছে, যার প্রধান (নেতানিয়াহু) একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিনও এক পোস্টে লিখেছেন, মার্কিন নাগরিকেরা এ সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দেননি এবং যুক্তরাষ্ট্র এটি সমর্থন করে না। তাঁদের করের টাকা ও মারণাস্ত্র হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করতে ব্যবহার করা হয়েছে।