আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস বেনফোল্ড ছবি: ইউএস নেভি
দক্ষিণ চীন সাগরে বড় ধরনের কারিগরি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর ১০ হাজার টন ওজনের গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস বেনফোল্ড’। জেনারেটর বিকল হয়ে টানা চার দিন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় মাঝ সমুদ্রে অচল হয়ে ভাসছিল জাহাজটি। এতে ভেতরে থাকা প্রায় ৩০০ ক্রু ও নাবিক তীব্র গরমে খাবার, পানীয় জল, সচল টয়লেট এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়াই চরম মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।
মার্কিন সপ্তম নৌবহরের মুখপাত্র কমান্ডার ম্যাথিউ কোমার জানান, জেনারেটর সংক্রান্ত মারাত্মক কারিগরি ক্রুটির কারণে এই নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের টাগবোটের সাহায্যে জাহাজটিকে টেনে ফিলিপাইনের সুবিক বে-তে নেওয়া হয়।
‘জর্জ ওয়াশিংটন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ’-এর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল এই ডেস্ট্রয়ারটি। গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ চীন সাগরের তাপমাত্রা প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। ফলে বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে পড়ায় জাহাজের ভেতরের পরিবেশ নাবিকদের জন্য সহ্যের অতীত হয়ে ওঠে। তবে কমান্ডার কোমার জানিয়েছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও ক্রুরা অদম্য ধৈর্য ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছিলেন এবং এই ঘটনায় কেউ আহত হননি। অচল থাকাকালীন স্ট্রাইক গ্রুপের অন্যান্য জাহাজ থেকে তাদের খাবারের জোগান দেওয়া হয়।
৩০ জুলাই ফিলিপাইনের সুবিক বে-তে পৌঁছানোর পর মার্কিন সপ্তম নৌবহরের রক্ষণাবেক্ষণ সংস্থা ‘আমেরিকাস শিপ রিপেয়ার ফ্যাসিলিটি’ এবং ‘জাপান রিজিয়নাল মেইনটেন্যান্স সেন্টার’ যৌথভাবে এর মেরামতের কাজ শুরু করে। দুই দিনের মাথায় জাহাজের বিদ্যুৎ সংযোগ ফের চালু করা সম্ভব হয় এবং ৭ আগস্টের মধ্যে সম্পূর্ণ মেরামত সম্পন্ন হয়। এরপর কিছু সময়ের জন্য জাপানে অবস্থান শেষে গত ১৭ আগস্ট জাহাজটি পুনরায় নতুন মিশনে রওনা দেয়।
সম্প্রতি মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোতে একের পর এক এমন বিপর্যয় এবং জীবনযাত্রার নিম্নমান নিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীতে উদ্বেগ বাড়ছে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংকট চলাকালে নিয়োজিত ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ জাহাজের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে নাবিকদের পরিবার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। জাহাজে অপর্যাপ্ত টয়লেট, গোসলের সংকট ও নিম্নমানের খাবারের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে একাধিক নাবিক সাগরে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন বলে জানা যায়। এছাড়া ভেনেজুয়েলা মিশন শেষে ফেরা ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ জাহাজেও গত মে মাসে অগ্নিকাণ্ড এবং টয়লেট ব্যবস্থা বিকল হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
বর্তমানে ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ স্ট্রাইক গ্রুপের বাকি যুদ্ধজাহাজগুলো—যার মধ্যে রয়েছে গাইডেড-মিসাইল ক্রুজার ‘ইউএসএস রবার্ট স্মলস’ এবং ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস শৌপ’—গত সপ্তাহে মালাক্কা প্রণালি পেরিয়ে আন্দামান সাগরে প্রবেশ করেছে। সামরিক সাময়িকী ‘দ্য ওয়ার জোন’-এর তথ্যমতে, এই বহরটি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে পারে। তবে সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়া ‘ইউএসএস বেনফোল্ড’ শেষ পর্যন্ত মূল বহরে আবার যোগ দিতে পারবে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়।