আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: আল জাজিরা
ইসরায়েলের দেওয়া একটি ভুয়া ইরানি হামলার সতর্কবার্তার জেরে তুরস্ক সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্র ফেরার পথে অত্যন্ত গোপনে নিজের নির্ধারিত বিমান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঘটনাটির পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের একটি অংশের মধ্যে এই সন্দেহ জোরদার হয়েছে যে, এই সতর্কবার্তাটি মূলত হুমকি মোকাবেলার চেয়ে ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও ট্রাম্পের ওপর নিজস্ব প্রভাব খাটাতে মনস্তাত্ত্বিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, এনপিআর ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে এনডিটিভি।
ঘটনার সূত্রপাত গত মাসে তুরস্কে আয়োজিত ন্যাটো সম্মেলন চলাকালে। সম্মেলন শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ উড়োজাহাজ 'এয়ার ফোর্স ওয়ান'-এ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হতে পারে—এমন একটি আগাম বার্তা মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসকে দেয় ইসরায়েলি গোয়েন্দারা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA) তখনও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। তা সত্ত্বেও সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ঝুঁকি এড়াতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে ট্রাম্পকে নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থায় সরিয়ে নেয় সিআইএ ও সিক্রেট সার্ভিস। প্রেসিডেন্টের মূল বিমান থেকে নজর সরাতে তাকে একটি বিশেষ ক্যাটারিং ট্রলি বা খাবারের ট্রাকে করে নিয়ে গিয়ে অতিক্ষুদ্র এক সামরিক বিমানে তুলে দেওয়া হয়। পুরো বিষয়টি সম্পর্কে ট্রাম্প পরবর্তীতে জানান, তিনি সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা নির্দেশনাই কেবল অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করেছিলেন।
তুরস্ক সফরের সময় ট্রাম্প মূলত কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া তাদের নতুন বিমানে আঙ্কারায় পৌঁছান। কিন্তু ছক অনুযায়ী নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং সাধারণ মানুষ, সংবাদকর্মী ও অন্য সফরসঙ্গীদের বিভ্রান্ত করতে প্রেসিডেন্সিয়াল নতুন বিমানটিকে আগে রওনা করিয়ে দেওয়া হয়। ক্যাটারিং ট্রলির ছদ্মবেশে ট্রাম্পকে অন্য এক ছোট সামরিক বিমানে তুলে গোপন ফ্লাইটে ওয়াশিংটন নেওয়া হয়। ওদিকে প্রেসিডেন্টের মূল বহরের সাংবাদিক ও ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা ভেবেছিলেন প্রেসিডেন্সিয়াল বিমানেই ট্রাম্প ফিরে যাচ্ছেন।
তবে ইসরায়েলের সরবরাহ করা এই সতর্কবার্তা নিয়ে শুরু থেকেই সন্দিহান ছিলেন সিআইএ ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এটি ছিল কেবল একটি একক সূত্রভিত্তিক তথ্য, যার সপক্ষে অন্য কোনো শক্ত প্রমাণ বা সমর্থনমূলক গোয়েন্দা উপাত্ত পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, স্বাগতিক দেশ হিসেবে তুরস্কের নিজস্ব নিরাপত্তা সংস্থাও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালিয়ে আঙ্কারা সফরকালে ট্রাম্পকে হত্যার কোনো বস্তুনিষ্ঠ বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার প্রমাণ পায়নি। পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ছাড়া শুধু ইসরায়েলি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রেসিডেন্টকে এভাবে গোপন বিমানে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি এখন মার্কিন নীতি নির্ধারণে ইসরায়েলের অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।