ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: বিবিসি
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। স্থানীয় সময় আজ শনিবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হবে। বৈঠকটি হবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানায়, সম্ভবত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল প্রথমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে আলাদাভাবে সাক্ষাৎ করবে, এরপর সম্ভাব্য আলোচনা শুরু হবে। সে অনুযায়ী বিকেলে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানায়, সম্ভবত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল প্রথমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে আলাদাভাবে সাক্ষাৎ করবে, এরপর সম্ভাব্য আলোচনা শুরু হবে। সে অনুযায়ী বিকেলে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে এই আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে ৭১ সদস্যের একটি বিশাল প্রতিনিধিদল এখন পাকিস্তানে অবস্থান করছে। এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন-ইরানের সংসদের স্পিকার এবং প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, পাকিস্তানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম, সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য আলী আকবর আহমাদিয়ান, সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি আলী বাঘেরি কানি, জাতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ইসমাইল আহমাদি মোগাদ্দাম, সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে সচিবের সহকারী মোহাম্মদ জাফরী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নাসের হেমাতি, উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজিম গরিবাবাদি, মাজিদ তাখত-ই রাভানচি, ভালিওল্লাহ নুরি, ইসমাইল বাঘাই, উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের স্পিকার আবোলফজল আমুয়ি, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাভাবিয়ান।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার ব্র্যাড কুপার, হোয়াইট হাউসের পলিসি প্ল্যানিং ডিরেক্টর মাইকেল অ্যান্টনসহ প্রায় ১০০ জন।
আলোচনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া ১৫ দফার একটি প্রস্তাব। যদিও এই প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ রূপ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার প্রতিশ্রুতি, উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর, তেহরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনাকে বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা তাদের ‘১০ দফা’ পরিকল্পনার ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নিতে চায়। অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় না আসে, তবে ওয়াশিংটন কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।
ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই আলোচনাকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ‘হয় এসপার, নয় ওসপার’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সূত্র : আল-জাজিরা
ধ্রুব/এস.আই