আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামের রাজপথেও ছবি: সংগৃহীত
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তাপ কি কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামের রাজপথেও। যখন হো চি মিন দেখলেন তার সারাদিনের উপার্জনের অর্ধেকটাই চলে গেছে পেট্রোল পাম্পে তেল কিনতে, তখন বেশ হতাশ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এই সংকট তার একার নয়, দমে যাওয়ার গল্প নয়, বরং এক জাতির ঘুরে দাঁড়ানোর এবং নতুন পথ খোঁজার গল্প।
হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার কারণে ভিয়েতনামে ডিজেলের দাম রাতারাতি দ্বিগুণ হয়েছে। যাদের জীবিকা চাকার ওপর নির্ভরশীল, তারা পড়েছেন চরম সংকটে। হো চি মিন বলেন, আমি ৭-৮ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ৯ ডলার আয় করছি, যার অর্ধেকই যাচ্ছে জ্বালানিতে— হো চি মিনের এই আক্ষেপ এখন ভিয়েতনামের লাখো গিগ কর্মীর। ট্রেনের কামরার মতো ঠাসা গণপরিবহন আর জ্বালানির চড়া দামে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কিছুটা স্থবির হলেও, এই স্থবিরতাই জন্ম দিচ্ছে পরিবর্তনের নতুন বীজ।
জনগণের এই দীর্ঘশ্বাস সরকার উপেক্ষা করেনি। নাগরিকদের অসন্তোষ কমাতে এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভিয়েতনাম সরকার ইতোমধ্যেই ২৭৩ মিলিয়ন ডলারের রাজস্ব ত্যাগ করে কর ছাড় দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ কেবল সাময়িক স্বস্তি নয়, বরং অর্থনীতির বড় ধাক্কা সামলানোর একটি সুসংগঠিত ঢাল। পেট্রোল স্টেশনের কর্মী ডুয়ি যেমনটা বলছিলেন, "সরকারের কর হ্রাসের ফলে তেলের দাম কিছুটা কমায় আয়ে বড় একটা প্রভাব পড়ার হাত থেকে বেঁচে গেছি।" এটি প্রমাণ করে যে, বিপদের দিনে রাষ্ট্র তার মানুষের পাশেই আছে।
এই যুদ্ধ ভিয়েতনামকে শিখিয়েছে আত্মনির্ভরশীলতার গুরুত্ব। বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো এখন তাদের চিন্তাধারা আমূল বদলে ফেলছে। ভিয়েতনামের বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী 'ভিনগ্রুপ' এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা বাতিল করে সেই বিশাল অর্থ এখন 'নবায়নযোগ্য জ্বালানি' প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। অর্থাৎ, আজকের এই তেলের সংকট ভিয়েতনামকে আগামীর এক দূষণমুক্ত এবং জ্বালানি-স্বতন্ত্র ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এটি কেবল একটি সংকট নয়, বরং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি বিপ্লবের শুরু।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে অনেক বাবা-মাকে তাদের সন্তানদের থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ায়। কিন্তু এই প্রতিকূলতা ভিয়েতনামের মানুষকে একতাবদ্ধ করছে। রান্নার গ্যাস সাশ্রয় করতে মানুষ আবার কাঠের চুলার ব্যবহারে ফিরে আসছে— যা আপাতদৃষ্টিতে কষ্টকর মনে হলেও, এটি তাদের ধৈর্য এবং অভিযোজন ক্ষমতার পরিচয় দেয়। সরকার এখন নতুন নতুন শোধনাগার নির্মাণের মাধ্যমে তেলের ওপর বিদেশি নির্ভরতা কমানোর কাজ ত্বরান্বিত করছে।