ফাহিম ফারহান
ঝিকরগাছায় বিচ্ছৃখলা সৃষ্টিকারী একদল যুবককে আটক করে আনাসার সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
শারদীয় দুর্গোৎসবের বর্ণিল আলোয় মুখর মণ্ডপে মণ্ডপে যখন আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন মানুষ, তখন সেই উৎসবের সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টাই মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসবের পবিত্রতা রক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে যশোরজুড়ে এক ব্যাপক ও সুদৃঢ় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে [cite: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পবিত্রতা রক্ষা, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে যশোরজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী]।
জেলা কমান্ড্যান্ট নুরুল আফসার জানিয়েছেন, যশোর জেলার মোট ৭৪৩টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় চার হাজার ৭৩৪ জন সদস্য দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে এক হাজার ৪৮৬ জন নারী এবং তিন হাজার ২৪৮ জন পুরুষ সদস্য রয়েছেন। গত ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ নিরাপত্তা প্রহরা চলবে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত । শুধু কেশবপুর উপজেলার ১০২টি মণ্ডপের সুরক্ষায় নিয়োজিত আছেন ৬৩০ জন সদস্য।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে জেলা ও ৮টি উপজেলায় পৃথক কন্ট্রোল রুম চালুর পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে স্ট্রাইকিং ফোর্স। জেলা পর্যায়ে একটি কন্ট্রোল রুম এবং জেলার ৮টি উপজেলায় পৃথক ৮টি কন্ট্রোল রুম গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা ঘটামাত্র তা প্রতিহত করতে আমাদের ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ এবং ব্যাটালিয়ন আনসারের সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন। এমনকি প্রতিটি মণ্ডপে দুজন করে ‘এন্ড ইউজার’ সদস্য ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিও বজায়।
দিনের ব্যস্ততা হোক কিংবা রাতের নিস্তব্ধতা—সব সময়ই যে তারা সমানভাবে তৎপর, তার বাস্তব প্রমাণ মিলেছে গত ১৬ অক্টোবর রাতে। ওই দিন ঝিকরগাছার ১ নম্বর বারোয়ারি কৃষ্ণনগর পূজামন্দিরের সামনে সিগারেট খাওয়াকে কেন্দ্র করে ১৫-২০ জন কিশোরের একটি দল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে । সংঘর্ষের একপর্যায়ে তারা মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করলে পুণ্যার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে । সে সময় অত্যন্ত সাহসিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসেন কর্তব্যরত ছয়জন আনসার-ভিডিপি সদস্য—কমান্ডার মো. আব্দুল আলীম, ভিডিপি সদস্য মুছা করিম, আনসার সদস্য মো. আব্দুল হাকিম, মো. রাকিব হোসেন, ভিডিপি সদস্য হাসিবুল ইসলাম এবং আনসার সদস্য মো. আব্দুর রহিম । তাদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ৭ জন কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যা পূজামণ্ডপের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দিন হোক কিংবা রাত—সর্বাবস্থায় মণ্ডপের সুরক্ষায় এই নিবেদিতপ্রাণ সদস্যদের সজাগ উপস্থিতি এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা কেশবপুরসহ পুরো যশোর জেলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ।