নিজস্ব প্রতিবেদক
‘যশোর সংস্কৃতি কেন্দ্র’-এর উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসবের পর্দা নেমেছে আজ। ছবি: ধ্রুব নিউজ
শিল্প-সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল জনপদ যশোরে লাল জুলাইয়ের স্মৃতি আবারও জেগে উঠেছিল সুর, শব্দ ও কথামালায়। জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ‘যশোর সংস্কৃতি কেন্দ্র’-এর উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসবের পর্দা নেমেছে আজ। জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য এই সমাপনী আয়োজন নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারে শেষ হয়।
সমাপনী পর্বের প্রারম্ভেই প্রদর্শিত হয় বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র ‘লাল জুলাই’। পর্দার আলো-ছায়ার খেলায় ধাপে ধাপে ভেসে ওঠে আন্দোলনের রক্তঝরা দিনগুলো, রাজপথের সংগ্রাম এবং অকুতোভয় শহীদের রক্তস্নাত আত্মত্যাগ। মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা মুহূর্তের জন্য ফিরে যান সেই অগ্নিঝরা দিনে; গোটা কক্ষে নেমে আসে এক ভাবগম্ভীর ও আবেগঘন পরিবেশ।
তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর আবেগ ঘনীভূত হতেই মঞ্চে আসেন যশোরের স্থানীয় পারফর্মিং আর্টের জনপ্রিয় সংগঠন রংধনু শিল্পীগোষ্ঠী, রূপদিয়ার সূর্যোদয় শিল্পীগোষ্ঠী, মুন্সী মেহেরুল্লাহ সাংস্কৃতিক সংসদ।
এই দলগুলোর শিল্পীদের একের পর এক মনোজ্ঞ ও দ্রোহের পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে শিল্পকলা একাডেমি। দেশাত্মবোধক গান, গণসংগীত এবং জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে রচিত কবিতা আবৃত্তির সুষম পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ ও আলোড়িত করে।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মুগ্ধতা শেষে শুরু হয় লাল জুলাইয়ের চেতনা ও সংস্কৃতি পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা সভা।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন বলেন, তরুণদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত এই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে আমাদের শিল্প ও সংস্কৃতিতে প্রতিনিয়ত ধারণ করতে হবে।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বিশিষ্ট কবি, গীতিকার, সমাজচিন্তক ও তাইফুন শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল আরেফীন বিপ্লবের দার্শনিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব কোনো ক্ষণিকের আবেগ ছিল না, এটি ছিল এ দেশের নিপীড়িত মানুষের বহুদিনের সঞ্চিত আক্রোশের প্রকাশ। গণমানুষের এই জাগরণকে স্থায়িত্ব দিতে হলে সংস্কৃতির প্রতিটি শাখায় সত্য ও ইনসাফের বাণী পৌঁছে দিতে হবে। তিনি বলেন, "আজকের উৎসব কেবল পেছনের স্মৃতিচারণ নয়, বরং রাজপথের অর্জিত স্বাধীনতাকে সংস্কৃতির লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখার অঙ্গীকার।"
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যশোর-৫ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও যশোর সংস্কৃতি কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক এমপি তরুণ প্রজন্মের এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনকে জাতীয় রাজনীতি ও সংস্কৃতিতে যথাযথভাবে মূল্যায়নের তাগিদ দেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বের সভাপতিত্ব করেন যশোর সংস্কৃতি কেন্দ্রের সদস্য সচিব অধ্যাপক আবুল হাশিম রেজা। তিনি দুই দিনব্যাপী এই সাংস্কৃতিক উৎসবে অংশ নেওয়া প্রতিটি সংগঠন, শিল্পী ও উপস্থিত সুধীজনকে ধন্যবাদ জানিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।