Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

এক শিক্ষকের অবৈধ ছুটিতেই যবিপ্রবির আর্থিক ক্ষতি ২০ লক্ষাধিক টাকা

তহীদ মনি তহীদ মনি
প্রকাশ : রবিবার, ১ নভেম্বর,২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
এক শিক্ষকের অবৈধ ছুটিতেই যবিপ্রবির আর্থিক ক্ষতি ২০ লক্ষাধিক টাকা

ছবি: সংগৃহীত

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শাহীন সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি ও আর্থিক নীতিমালা লঙ্ঘন করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে শিক্ষা ছুটি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ পন্থায় তার পদোন্নতি ও তিন বছর স্ববেতনে ছুটি ভোগের কারণে যবিপ্রবির অন্তত ২০ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সেই সঙ্গে ছুটি নীতিমালা ও পদোন্নতির বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ ওঠার বিষয়টি স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে অতীতের অনিয়ম স্বীকার করলেও লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোনোটির বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছে।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবিতে) বছরের পর বছর অনিয়ম জেঁকে বসেছে। এর থেকে বের হতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, পদোন্নতিতে অনিয়ম, স্ববেতনে ছুটির ক্ষেত্রে অনিয়ম, কেনাকাটায় অনিয়ম ও দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি—সব কিছু সেখানে চলেছে কারও না কারও খেয়ালখুশিতে। লিফট কেনা ও বসানো, টেবিল-ফার্নিচার তৈরির টেন্ডার, নীতি না মেনে মালামাল দেওয়ায় ফেরত, ভবন নির্মাণে অনিয়ম, মহিলা হোস্টেলসহ সব হোস্টেলকে দলীয় কার্যালয় বানানো, র‌্যাগের নামে শিক্ষার্থী নির্যাতন, এমনকি একটি দলীয় কর্মীর হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরীহ শিক্ষার্থীকে হত্যা, হল থেকে বিতাড়ন, চব্বিশের অভ্যুত্থানে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সরাসরি অবস্থান, শাস্তি দেওয়া, তৎকালীন শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাদের দিয়ে আন্দোলনকারীদের মারধর-জখম করাসহ এমন শত শত খবর এই কয়েক বছর বিভিন্ন সংবাদ ও গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে বহুবার।
সম্প্রতি ড. শাহীন সরকারের যে বিষয়টি উঠে আসে, তা হলো—তিনি ২০১৮ সালে ফার্মেসি বিভাগে অস্থায়ী ভিত্তিতে প্রভাষক পদে নিয়োগ পান। একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর তাকে স্থায়ীভাবে প্রভাষক করা হয়। ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল অস্থায়ীভাবে সহকারী অধ্যাপক করা হয়, যদিও সেটি ওই সালের ২ এপ্রিল থেকে কার্যকরী করা হয়। একই সময়ে তাকে ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদের বিপরীতেই সহকারী অধ্যাপক করা হয় অস্থায়ীভাবে। তৎকালীন রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীবের স্বাক্ষরে নিয়োগ ও যোগদানপত্রে এসব তথ্য উঠে আসে। সহকারী অধ্যাপক শাহীন সরকার ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই জাপানে তিন বছর মেয়াদি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য স্ববেতনে ছুটি চেয়ে আবেদন করেন এবং আগস্ট মাসের ২ তারিখে তা অনুমোদিত হয়। ২০২৬ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করে তিনি আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন। এই তিন বছর তিনি পূর্ণ বেতন ও ভাতাসহ সব কিছু উপভোগ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুসারে অস্থায়ী পদের পদোন্নতি হয় না; নিয়ম ভেঙে এখানে তাকে সহকারী অধ্যাপক করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই পদটিও অস্থায়ী, তাই এটিও নিয়ম মেনে হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যবিপ্রবির ছুটির বিধান ৬.১-এ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, স্থায়ী নিয়োগ লাভের পর দুই বছর চাকরি পূর্ণ করলে তিনি স্ববেতনে শিক্ষা ছুটি পাবেন। এই নিয়ম সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করার অভিযোগ ওঠে সহকারী অধ্যাপক শাহীন সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
সহকারী অধ্যাপক শাহীন সরকারের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি আওয়ামী সমর্থিত নীল দলের সক্রিয় সদস্য এবং ওই প্যানেল থেকে বারবার শিক্ষক নির্বাচন করেছেন। তা ছাড়া, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও আওয়ামী সমর্থিত ‘ওয়ান বাংলাদেশ’-এরও সক্রিয় সদস্য। তিনি তৎকালীন সরকারের পক্ষে দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে এসব সুযোগ-সুবিধা বাগিয়ে নিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে সহকারী অধ্যাপক ড. শাহীন সরকার বলেন, “অনেক কষ্টে একটি স্কলারশিপ পেয়ে ছুটির আবেদন করেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে স্ববেতনে ছুটি দিয়েছিল, আমিও তেমন চেয়েছিলাম। দেওয়া যাবে কি যাবে না, সেটি তাদের এখতিয়ার ছিল; এর দায়ভার আমি নিতে পারি না। তারপরও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যা সিদ্ধান্ত নেবে, তা তো আমাকে মানতে হবে।” তবে তিনি অস্থায়ী সহকারী অধ্যাপক থেকেই তিন বছর জাপানে পিএইচডি কোর্সের জন্য ছুটির আবেদন করেছিলেন বলেও জানান।
অবশ্য নীল দল, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও ‘ওয়ান বাংলাদেশ’-এর সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সে সময় আমরা যারা নতুন ছিলাম, তাদের পক্ষে আর কীইবা করার ছিল।’

যবিপ্রবির রেজিস্ট্রার কাজী মো. জালাল উদ্দীন বলেন, “এই ছুটিটি সম্পূর্ণ অবৈধ প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়েছে। ছুটি দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রের ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। যারা এই স্ববেতনে ছুটি দিয়েছিলেন, তারা সঠিক কাজ করেননি—এককথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন। এ জাতীয় কাজ বন্ধ হওয়া উচিত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। খুব দ্রুতই এ ব্যাপারে অ্যাকশনে যাব।”
“আপনারা কী করছেন?”—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “আমরা ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছি। ফাইলে নোট দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে উপাচার্যের (ভিসি) শরণাপন্ন হব; তিনি যেভাবে নির্দেশনা দেবেন এবং প্রয়োজনে রিজেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে সেভাবে ব্যবস্থা নেব।”
যবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. ইয়ারুল কবীর জানান, এ জাতীয় ছুটির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতি ও নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গ হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চালানো কঠিন। আমরা অবশ্যই নিয়মাফিক চলতে চাই, শৃঙ্খলা ফেরাতে চাই। ড. শাহীনের বিষয়ে আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। একজন অস্থায়ী পদের শিক্ষক স্ববেতনে ছুটি ভোগ করতে পারেন না।
এরকম আরও কিছু ঘটনার কথা তিনি মৌখিকভাবে অবহিত হয়েছেন এবং অনেক অভিযোগের কথা শোনার বিষয়টিও স্বীকার করেন। তবে তিনি জানান, সব অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিতে চাই, তদন্ত কমিটি গঠন করতে চাই; কিন্তু সে ক্ষেত্রে প্রথমে দরকার লিখিত অভিযোগ। সাড়ে চার শ-এর বেশি শিক্ষক এবং ততোধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। লিখিত অভিযোগ ছাড়া কারও ফাইলে হাত দিলে ব্যক্তি আক্রোশের অভিযোগ উঠবে। আবার বিগত বছরের পুরো অনিয়ম, পদোন্নতি ও নিয়োগে অনিয়মসহ বিভিন্ন স্বজনপ্রীতি-দুর্নীতি এবং অপরাধ ধরতে গিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করতে হলে কয়েক বছর লেগে যাবে, যা একপ্রকার অসম্ভব। ফলে যার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাব, তার বিষয়েই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)