বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

বেনাপোল কমিউটারের বেসরকারি ব্যবস্থাপনা প্রথম দিনেই সাড়া ফেলেছে

ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : রবিবার, ১১ জানুয়ারি,২০২৬, ১০:০৩ এ এম
বেনাপোল কমিউটারের বেসরকারি ব্যবস্থাপনা প্রথম দিনেই সাড়া ফেলেছে

❒ বেনাপোল–খুলনা–মোংলা রুটে চলাচলকারী ‘বেনাপোল কমিউটার আজ ঝিকরগাছা স্টেশন থেকে মোংলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ছবি:

সরকারি ব্যবস্থাপনা থেকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রথম দিনেই বেনাপোল–খুলনা–মোংলা রুটে চলাচলকারী ‘বেনাপোল কমিউটার’ (৫৩ বেতনা) ট্রেনের টিকিট বিক্রিতে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশনে অন্যান্য দিনের তুলনায় টিকিট বিক্রির হার এবং রাজস্ব আদায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আজ থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেনটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’। প্রতিষ্ঠানটি আগামী তিন বছরের জন্য এই টিকিট ব্যবস্থাপনার কার্যাদেশ পেয়েছে। তবে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হলেও যাত্রীদের সুবিধার্থে ট্রেনের ভাড়া বাড়ানো হয়নি; পূর্বের নির্ধারিত মূল্যেই টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।

সকালে ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই টিকিট কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড়। ঝিকরগাছা স্টেশনটি মূলত দেশের বৃহত্তম ফুলের রাজ্য গদখালীর প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত হওয়ায় এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। নতুন ব্যবস্থাপনার প্রথম দিনেই এই স্টেশনে টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে এক ধরণের রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

স্টেশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, বিশেষ করে বেনাপোলগামী যাত্রীদের টিকিট কাটার ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে। সাধারণত প্রতিদিন সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা বেনাপোলগামী ট্রেনের জন্য ঝিকরগাছা থেকে মাত্র ৩ থেকে ৪টি টিকিট বিক্রি হতো। কিন্তু আজ বেসরকারি ব্যবস্থাপনার প্রথম দিনেই সেখানে টিকিট বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪০টি। অর্থাৎ বিক্রির হার বেড়েছে ১০ গুণেরও বেশি।

একই চিত্র দেখা গেছে মোংলাগামী ট্রেনের ক্ষেত্রেও। সকাল ০৯টা ৫০ মিনিটে বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা মোংলাগামী ট্রেনে সাধারণত যেখানে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন যাত্রী টিকিট কাটতেন, আজ সেই সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। যাত্রীদের মতে, টিকিট পরীক্ষা ও স্টেশনের প্রবেশপথে কড়াকড়ি থাকায় সবাই টিকিট কাটতে বাধ্য হচ্ছেন, যা রেলের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে।

১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর এই রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ২০১০ সাল পর্যন্ত এটি সরকারি অধীনে থাকলেও পরে একবার বেসরকারি করা হয়েছিল। তবে তৎকালীন অব্যবস্থাপনা ও চোরাচালানের অভিযোগে ২০১৩ সালে পুনরায় এটি সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। দীর্ঘ এক দশক পর আবারও সেবার মান বাড়াতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরল এই লাভজনক রুটটি।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনা হলেও প্রথম দিন স্টেশনে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। ট্রেনের প্রতিটি কোচ এবং স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন গেটে কর্মকর্তাদের টিকিট যাচাই করতে দেখা যায়। এতে যাত্রী সাধারণের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে।

ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার নিগার সুলতানা বলেন, ‘আজ থেকে এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন ট্রেনটির টিকিট ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বুঝে নিয়েছে। তবে তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়মিত তদারকির আওতায় থাকবে। প্রথম দিনে যাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাওয়া গেছে।’

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 225 x 270 Position (2)
Position (2)