নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যুক্ত হলো নতুন দুটি কাব্যগ্রন্থ। শুক্রবার বিকালে শহরের প্রাচ্যসংঘ যশোরের উন্মুক্ত মঞ্চে কবি উর্মি রহমানের ‘থেকে যাবো ধূসর ডানায়’ এবং কবি অতসী’র ‘ভালোবাসার শীতলপাটি’ কাব্যগ্রন্থ দুটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বই দুটির মোড়ক উন্মোচন করেন দেশের খ্যাতিমান ও বরেণ্য গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান। প্রাচ্যসংঘ যশোরের কার্যনির্বাহী কমিটির আহবায়ক খবির উদ্দিন সুইটের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাচ্যসংঘের প্রতিষ্ঠাতা, গবেষক ও সাংবাদিক বেনজীন খান, কবি কাসেদুজ্জামান সেলিম, দাউদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল মাহফুজা নাসরিন এবং কবি চঞ্চল শাহরিয়ার। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দুই গ্রন্থের রচয়িতা কবি উর্মি রহমান ও কবি অতসী।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বরেণ্য গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান তার বক্তব্যে বলেন, আজ দুইজন প্রতিভাবান কবির দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করতে পেরে আমার নিজের কাছে খুব ভালো লাগছে। কবিদ্বয় অনুষ্ঠানে নিজেদের লেখা কবিতা পাঠ করে আমাদের সমৃদ্ধ করেছেন। আমি লক্ষ্য করেছি, আজকের অনেক কবি নিজেদের কবি হিসেবে পরিচয় দিতে কুণ্ঠাবোধ করেন। কিন্তু আমি নিজেকে কবি ও গীতিকবি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করি। আমাদের যুবসমাজ বই থেকে মুখ সরিয়ে নিচ্ছে। অথচ আত্মকথন ও বিস্মৃতি—এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটানোই একজন কবি ও গীতিকবির মূল কাজ। জীবনানন্দ দাশ বলেছেন উপমায় কবিতা; কিন্তু শুধু উপমা দিয়ে কবিতা হয় ঠিকই, তবে আত্মকথন ও বিস্মৃতি কবিকে সুদূরপ্রসারী সৃষ্টিতে সহায়তা করে। সৃষ্টির মূল রহস্য হচ্ছে নতুন কিছু আবিষ্কার করা।
মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান আরও বলেন, একজন ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে পূর্ণিমার চাঁদকে ঝলসানো রুটি বলে মনে হয়, কারণ তার কাছে ক্ষুধানিবারণই মুখ্য বিষয়। চাঁদের আলো তার জীবনে কোনো নতুন আলোকপাত করতে পারে না। কবিরা যদি কবিতার পাশাপাশি গান রচনা করেন, তবে বাংলা সংগীতে আবারও নতুন মাত্রা যোগ হবে এবং আমাদের সংগীতজগৎ আরও সমৃদ্ধ হবে। সংগীত জীবনের কথা বলে। সুরের ঝঙ্কারে জীবনবোধ নতুন করে জাগ্রত করাই তো জীবন। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা কী রেখে যাচ্ছি, তা গুরুত্বের সাথে ভাবতে হবে।” সবশেষে তিনি নিজের লেখা একটি কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে তার বক্তব্যের সমাপ্তি টানেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লেখক ও গবেষক বেনজীন খান নতুন বই দুটির সাফল্য কামনা করেন এবং যশোরের সাহিত্যচর্চাকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানান। এছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশেষ অতিথিবৃন্দও সাহিত্যে নতুন সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন কবি আলী বকস ও কবি মশিয়ার রহমান। প্রকাশিত গ্রন্থ দুটির পরিচিতি তুলে ধরেন সৈয়দ ফাহিম রাফিদ ও অনিক মাজহার। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদ সোহানুর রহমান ও তাপস কুমার পাল। অনুষ্ঠানে যশোরের স্থানীয় কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।